ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুমুদ ফ্লোটিলা গাজার কাছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 118

সুমুদ ফ্লোটিলা গাজার কাছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ পৌঁছেছে

ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে গাজার দিকে এগোচ্ছে বৈশ্বিক মানবাধিকারকর্মীদের নৌকা ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’। ত্রাণবাহী ছোট ছোট নৌকাগুলো এখন গাজার কাছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ পৌঁছেছে, অর্থাৎ গাজা থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে। এর আগে যতবার ফ্লোটিলা ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, সবগুলোর ওপরই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

আজ বুধবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নৌকাগুলোর মধ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত মানবাধিকারকর্মীরা আছেন। তারা খাবার, ওষুধ ও কাপড়সহ নিত্যপণ্য নিয়ে সাগরপথে গাজার দিকে যাচ্ছেন। গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে তারা এসব ত্রাণসামগ্রী দুর্গত মানুষদের হাতে পৌঁছে দিতে চান।

সংবাদে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সিসকা আলবানিজ, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট, তুরস্কের সবচেয়ে তরুণ আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমি ও অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মানবাধিকারকর্মীরা ফ্লোটিলার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্পেন ও ইতালি থেকে আসা মানবাধিকারকর্মীরা ফ্লোটিলা নিয়ে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছেন। তুরস্কের ড্রোনগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সবার নিরাপত্তার জন্য কিছু নৌকা থেকে লাইভ সম্প্রচারও করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ফ্লোটিলার গতি রোধে বদ্ধপরিকর। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, গাজায় অবরোধ ‘আইনসিদ্ধ’। তবে আন্তর্জাতিক আইনে দুর্গতদের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা আছে।

বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ফ্লোটিলা অভিযানের অন্যতম আয়োজক ডেভিড অ্যাডলার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আশঙ্কা করছি, এটি আমার শেষ চিঠি। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে বলছি। এখন গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আছি।”

তিনি আরও লিখেছেন, “গত রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ আমাদের হুমকি দিয়েছে, আমাদের জাহাজে আক্রমণ করেছে, ক্রুদের ভয় দেখিয়েছে এবং আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।”

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ছয় অস্ট্রেলিয়ান এই ফ্লোটিলায় অংশ নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সব পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে এবং সংঘাত থেকে বিরত থাকবে।

ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের মোবাইল ফোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে।

তুরস্কের আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমি বলেন, “আমাদের চোখ, কান ও হৃদয় সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গে আছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সুমুদ ফ্লোটিলা গাজার কাছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ পৌঁছেছে

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে গাজার দিকে এগোচ্ছে বৈশ্বিক মানবাধিকারকর্মীদের নৌকা ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’। ত্রাণবাহী ছোট ছোট নৌকাগুলো এখন গাজার কাছে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ পৌঁছেছে, অর্থাৎ গাজা থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে। এর আগে যতবার ফ্লোটিলা ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, সবগুলোর ওপরই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

আজ বুধবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নৌকাগুলোর মধ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত মানবাধিকারকর্মীরা আছেন। তারা খাবার, ওষুধ ও কাপড়সহ নিত্যপণ্য নিয়ে সাগরপথে গাজার দিকে যাচ্ছেন। গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে তারা এসব ত্রাণসামগ্রী দুর্গত মানুষদের হাতে পৌঁছে দিতে চান।

সংবাদে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সিসকা আলবানিজ, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট, তুরস্কের সবচেয়ে তরুণ আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমি ও অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মানবাধিকারকর্মীরা ফ্লোটিলার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্পেন ও ইতালি থেকে আসা মানবাধিকারকর্মীরা ফ্লোটিলা নিয়ে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছেন। তুরস্কের ড্রোনগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সবার নিরাপত্তার জন্য কিছু নৌকা থেকে লাইভ সম্প্রচারও করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ফ্লোটিলার গতি রোধে বদ্ধপরিকর। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, গাজায় অবরোধ ‘আইনসিদ্ধ’। তবে আন্তর্জাতিক আইনে দুর্গতদের কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা আছে।

বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ফ্লোটিলা অভিযানের অন্যতম আয়োজক ডেভিড অ্যাডলার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আশঙ্কা করছি, এটি আমার শেষ চিঠি। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে বলছি। এখন গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আছি।”

তিনি আরও লিখেছেন, “গত রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ আমাদের হুমকি দিয়েছে, আমাদের জাহাজে আক্রমণ করেছে, ক্রুদের ভয় দেখিয়েছে এবং আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।”

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ছয় অস্ট্রেলিয়ান এই ফ্লোটিলায় অংশ নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সব পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে এবং সংঘাত থেকে বিরত থাকবে।

ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের মোবাইল ফোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে।

তুরস্কের আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমি বলেন, “আমাদের চোখ, কান ও হৃদয় সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গে আছে।”