ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 84

এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি

বাংলাদেশের তরুণনির্ভর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস মিলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে একীভূত হয়ে নতুন শক্তি গড়ার আলোচনা আবারও গতি পেয়েছে। যদিও এর আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বের অবস্থান ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়া থেমে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নুরের ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আলোচনা আবারও সামনে আসে।

এনসিপি এবং গণঅধিকার পরিষদ—দুটি দলই মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা শক্তি। সমান অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দাবি থেকেই তাদের যাত্রা শুরু। উভয়ই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। আন্দোলনের ইতিহাস, দাবি ও উদ্দেশ্য এক হওয়ায় যৌথভাবে কাজ করলে প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত কয়েক দিনে দুই দলের নির্বাহী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনায় আছে; দলের নাম রাখা হবে কি না, নাকি এনসিপি নামেই থাকবে।

নেতৃত্বে নাহিদ ইসলামকে প্রধান রেখে নুরুল হক নুরকে সম্মানজনক পদে রাখার প্রস্তাব।

গণঅধিকার পক্ষ থেকে সভাপতি ও নির্বাহী সভাপতি—এই দুটি পদ সৃষ্টি করে নাহিদ ও নুরকে একসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে রাখার প্রস্তাব। তবে দুই পক্ষই স্বীকার করছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমঝোতা প্রয়োজন।

এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি
এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি

আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টিও একীভূত হওয়ার আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। এনসিপির নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তপশিল দ্রুত ঘোষণা হলে গণঅধিকারের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গণঅধিকার নামেই টিকে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। গণঅধিকার পরিষদের অনেকেই নুরুল হক নুরকে প্রধান দেখতে চান। কেউ কেউ সভাপতি হিসেবে নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাহিদ ইসলামকে চান। অন্যদিকে এনসিপির তৃণমূল নাহিদ ইসলামকেই শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের একীভূত প্রচেষ্টা সফল হলে জাতীয় রাজনীতিতে তা বড় প্রভাব ফেলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্বব্যাপী তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সঠিক সংগঠন ও আদর্শিক ভিত্তি থাকলে আগামী নির্বাচনে তরুণদের জয়ের সম্ভাবনা ব্যাপক।

‘ইউনাইটেড পিপল অব বাংলাদেশ’ (আপ বাংলাদেশ) নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্মও এ আলোচনায় রয়েছে। তাদের সঙ্গে এনসিপির প্রাথমিক আলাপ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দলটির আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের উত্থান। ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২১ সালে দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং ২০২৪ সালে দলটি ইসি নিবন্ধন পায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণরা এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠন করে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন দুজনই একসময় নুরের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দুই দলের নেতারা বলছেন, একীভূত হওয়ার বিষয়ে তারা আন্তরিক। তবে এটি হবে পারস্পরিক সম্মান ও সাংগঠনিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে। নেতৃত্ব, নামকরণ ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো নির্ধারণ হলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। তরুণদের ঐক্য যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে পারে

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের তরুণনির্ভর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস মিলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে একীভূত হয়ে নতুন শক্তি গড়ার আলোচনা আবারও গতি পেয়েছে। যদিও এর আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বের অবস্থান ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়া থেমে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নুরের ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আলোচনা আবারও সামনে আসে।

এনসিপি এবং গণঅধিকার পরিষদ—দুটি দলই মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা শক্তি। সমান অধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দাবি থেকেই তাদের যাত্রা শুরু। উভয়ই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। আন্দোলনের ইতিহাস, দাবি ও উদ্দেশ্য এক হওয়ায় যৌথভাবে কাজ করলে প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত কয়েক দিনে দুই দলের নির্বাহী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনায় আছে; দলের নাম রাখা হবে কি না, নাকি এনসিপি নামেই থাকবে।

নেতৃত্বে নাহিদ ইসলামকে প্রধান রেখে নুরুল হক নুরকে সম্মানজনক পদে রাখার প্রস্তাব।

গণঅধিকার পক্ষ থেকে সভাপতি ও নির্বাহী সভাপতি—এই দুটি পদ সৃষ্টি করে নাহিদ ও নুরকে একসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে রাখার প্রস্তাব। তবে দুই পক্ষই স্বীকার করছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমঝোতা প্রয়োজন।

এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি
এনসিপি-গণঅধিকার: একীভূত হওয়ার আলোচনায় গতি

আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টিও একীভূত হওয়ার আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। এনসিপির নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তপশিল দ্রুত ঘোষণা হলে গণঅধিকারের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গণঅধিকার নামেই টিকে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। গণঅধিকার পরিষদের অনেকেই নুরুল হক নুরকে প্রধান দেখতে চান। কেউ কেউ সভাপতি হিসেবে নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাহিদ ইসলামকে চান। অন্যদিকে এনসিপির তৃণমূল নাহিদ ইসলামকেই শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের একীভূত প্রচেষ্টা সফল হলে জাতীয় রাজনীতিতে তা বড় প্রভাব ফেলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্বব্যাপী তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সঠিক সংগঠন ও আদর্শিক ভিত্তি থাকলে আগামী নির্বাচনে তরুণদের জয়ের সম্ভাবনা ব্যাপক।

‘ইউনাইটেড পিপল অব বাংলাদেশ’ (আপ বাংলাদেশ) নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্মও এ আলোচনায় রয়েছে। তাদের সঙ্গে এনসিপির প্রাথমিক আলাপ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দলটির আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের উত্থান। ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২১ সালে দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং ২০২৪ সালে দলটি ইসি নিবন্ধন পায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণরা এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠন করে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন দুজনই একসময় নুরের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দুই দলের নেতারা বলছেন, একীভূত হওয়ার বিষয়ে তারা আন্তরিক। তবে এটি হবে পারস্পরিক সম্মান ও সাংগঠনিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে। নেতৃত্ব, নামকরণ ও সাংগঠনিক বিষয়গুলো নির্ধারণ হলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। তরুণদের ঐক্য যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে পারে