ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তিস্তায় চীনা অর্থায়ন

বাংলাদেশ অপেক্ষায়, চীনের সাড়া মিলছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 84

তিস্তায় চীনা অর্থায়ন

বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্প অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে চীনের কাছে ৫৫ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হলেও দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো বেইজিং থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া মেলেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জুলাইয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল এবং এর পর একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর আসেনি। প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রয়োজন প্রায় ৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যার মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চীনের কারিগরি সহায়তায় খরচের কাঠামো ও কাজের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উজানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে ভাটির বাংলাদেশে কৃষি, মাছ চাষ ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চীন এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিগগিরই বিশেষজ্ঞ দল এসে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া বিনিয়োগ নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশ প্রথমবার ২০২১ সালের মার্চে চীনের কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের মার্চে বেইজিং থেকে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ আসে এবং প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। ইতোমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করেছে।

কূটনৈতিক মহল বলছে, এই প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক বিষয়ও রয়েছে। কারণ তিস্তা ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ৪১৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৩০৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং ১০৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনায় মিলেছে।

চীনা অর্থায়ন এলে প্রথম ধাপে জমি পুনরুদ্ধার, বাঁধ নির্মাণ, গার্ড স্পার, নদী খনন ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নৌপথ উন্নয়ন, নতুন টাউনশিপ গড়ে তোলা এবং জীবিকা পুনর্গঠনের কাজ।

সরকারের ধারণা, চীনের মতো বিশ্বশক্তির সহযোগিতা ছাড়া এত বড় প্রকল্প এগোনো সম্ভব নয়। তবে দেরি হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বাংলাদেশকে সহায়তা করবে এবং তিস্তা পুনর্গঠন বাস্তবায়িত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তিস্তায় চীনা অর্থায়ন

বাংলাদেশ অপেক্ষায়, চীনের সাড়া মিলছে না

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্প অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে চীনের কাছে ৫৫ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হলেও দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো বেইজিং থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া মেলেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জুলাইয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল এবং এর পর একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর আসেনি। প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রয়োজন প্রায় ৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যার মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চীনের কারিগরি সহায়তায় খরচের কাঠামো ও কাজের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উজানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে ভাটির বাংলাদেশে কৃষি, মাছ চাষ ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চীন এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিগগিরই বিশেষজ্ঞ দল এসে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া বিনিয়োগ নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশ প্রথমবার ২০২১ সালের মার্চে চীনের কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের মার্চে বেইজিং থেকে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ আসে এবং প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। ইতোমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করেছে।

কূটনৈতিক মহল বলছে, এই প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক বিষয়ও রয়েছে। কারণ তিস্তা ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ৪১৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৩০৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং ১০৯ কিলোমিটার বাংলাদেশের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনায় মিলেছে।

চীনা অর্থায়ন এলে প্রথম ধাপে জমি পুনরুদ্ধার, বাঁধ নির্মাণ, গার্ড স্পার, নদী খনন ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নৌপথ উন্নয়ন, নতুন টাউনশিপ গড়ে তোলা এবং জীবিকা পুনর্গঠনের কাজ।

সরকারের ধারণা, চীনের মতো বিশ্বশক্তির সহযোগিতা ছাড়া এত বড় প্রকল্প এগোনো সম্ভব নয়। তবে দেরি হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বাংলাদেশকে সহায়তা করবে এবং তিস্তা পুনর্গঠন বাস্তবায়িত হবে।