ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ভ্যাট গোয়েন্দা প্রধানের

স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটকে বাঁচাতে অভিনব কৌশল

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 276

দুর্নীতির অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না কাস্টমস গোয়েন্দা প্রধান জাকির হোসেনের।

দুর্নীতির অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না ঢাকা কাস্টমস হাউজের সাবেক কমিশনার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। যিনি বর্তমানে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যখনই যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন, তখনই সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এবার বাংলা অ্যাফেয়ার্সের হাতে এসেছে এই কর্মকর্তার সবশেষ কর্মস্থল ঢাকা কাস্টমস হাউজে থাকাকালিন কৌশলে বিমানের একটি স্বর্ন চোরাচালান সিন্ডিকেটকে বাঁচানোর চেষ্টার তথ্য।

 

এই কর্মকর্তা গত ২৬ আগস্ট ঢাকা কাস্টমস কমিশনার থেকে বদলি হয়ে ভ্যাট ও শুল্ক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন। এর মাত্র ১২ দিন আগে অর্থাৎ ১৪ আগস্ট বিমানে স্বর্ণ উদ্ধারের একটি ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে চিঠি দেয়।

 

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টে কাতার থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩২৬ ফ্লাইট। ওই দিন সকাল ৭টায় অবতরণের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উড়োজাহাজটি থেকে ৮ কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণ আটক করে বিমানবন্দরের শুল্ক ও কাস্টমস গোয়েন্দা দল। এবং এই ঘটনা ভিডিও করে রাখেন তারা। যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

 

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয় শুল্ক ও কাস্টমস বিভাগ। যেখানে যাত্রী, পাসপোর্ট নম্বর এবং ঠিকানা-সবই অজ্ঞাত দেয়া হয়। ঘটনা তদন্ত করে এখনো জড়িত কাউকে পায়নি সংস্থাটি।

 

এদিকে ওই ঘটনার ধারনকৃত ভিডিওতে দেখা যায় উদ্ধার করা স্বর্নের বারগুলো কার্গো অংশের মেঝের কর্ণারে সুরক্ষিতভাবে কস্টেপ দিয়ে লাগানো ছিলো। এরপরেও এই ঘটনায় আসামী অজ্ঞাতনামা রাখায় এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি দেখে বোঝাই যাচ্ছে বারগুলো কেউ একজন কস্টেপ দিয়ে সংরক্ষিত রেখেছে। আর বিমানের কার্গো অংশ একটি সংরক্ষিত এলাকা। যেখানে যাত্রী সাধারণের প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। এমনকি বিমানেরও অননুমোদিত কারো সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। ওই এলাকায় যেহেতু বিমানের অনুমোদিত কর্মী ছাড়া কারো প্রবেশাধীকার নেই। তাই এই ঘটনার দায় বিমান কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

 

এই ঘটনার ৭ দিনের মাথায় ১৪ আগস্ট অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি চিঠি দেয় কাস্টমস। আর ১২ দিনের মাথায় ঢাকা কাস্টমস ছাড়েন জাকির হোসেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে।

 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানের কার্গো অংশে সুকৌশলে কাপড় দিয়ে মোড়ানো কিছু সংখ্যক গোল্ডবার বা স্বর্ণপিন্ড সদৃশ বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশী করে একটি জিপিএস ট্র্যাকার সদৃশ বস্তু এবং ৮ কেজি ১২০ গ্রামের ৭০ টি স্বর্ণ বার পাওয়া যায়। আপনার উক্তরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আপনি শুল্ককরাদি ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন।

 

আপনার উক্তরূপ কর্মকাণ্ড ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৪’ এর বিধি ৩ (৯), ৩(১০), ৭(১), ৮(১) ও ১০ এবং ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ২ (২৪), ১৭, ৩৩ (১) ও ১৫৪ এর লঙ্ঘন। ফলে আপনার আনীত পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য হওয়ায় ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৯১ মূলে সূত্রোক্ত আটক রশিদের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে পণ্যগুলো সাময়িক আটক করা হয় এবং আটক রশিদের কপি আপনাকে প্রদান করা হয়েছে।

 

আপনার (অজ্ঞাতনামা) এ কাজ ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ২ এর উপধারা (২৪) অনুসারে চোরাচালান হিসেবে বিবেচিত এবং একই আইনের ১৭, ৩৩ ও ১৫৪ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার (অজ্ঞাতনামা) উক্তরূপ কর্মকাণ্ড একই সাথে ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৪’ এর বিধি ৩ (১০), ৭(১), ৮(১) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন যা ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৭১ এর আওতায় শান্তিযোগ্য অপরাধ।

 

তাছাড়া উক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ এর অনুচ্ছেদ ০৪ (৮) ও ২৫ (১২) এবং Foreign Exchange Regulations Act, 1947 (VII of 1947) এর Section 4 এর Sub-Section (1), Section 8 এর Sub-Section (1), Import & Export (Control) Act, 1950 এর Section 3 এর Sub-Section (1) বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে, আটককৃত পণ্যসমূহ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য বিধায় তা বাজেয়াপ্ত করে ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৯১ ও ১৯২ অনুসারে উক্ত পণ্যসমূহ আটক করে বিমানবন্দরন্থ মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে।

 

এমতাবস্থায়, আটককৃত পণ্য ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৭১ (১) এর টেবিলভুক্ত দফা ৫, ৯, ২৯ ও ৪৪ অনুযায়ী সরাসরি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার সন্তোষজনক লিখিত জবাব এবং উক্ত পণ্য ক্রয় বা অর্জন ও অর্থের উৎস সম্পর্কিত দলিলাদি, এয়ারলাইন্স টিকেট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য দলিলাদিসহ আগামী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারী বরাবর দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হল। একইসাথে আপনি নিজে অথবা আপনার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে (ক্ষমতা অর্পণ পত্র (Power of Attorney) ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ। শুনানি প্রদানে আগ্রহী হলে তা লিখিত জবাবে উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। উপর্যুক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নোটিশের লিখিত জবাব এ দপ্তরে দাখিল করা না হলে নথিতে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট দলিলাদির ভিত্তিতে আইনানুগ পন্থায় মামলাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

অভিযোগ ওঠে, বিমানের সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যদের আড়াল করতেই সুকৌশলে তৎকালীন কাস্টমস কমিশনার তরিঘরি করে এ চিঠি ইস্যু করেছেন। যার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এর তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

কেননা এর আগে এই ধরনের যতো ঘটনা ঘটেছে, সবগুলো ব্যক্তি পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট বিমান কর্তৃপক্ষকে আসামী করে চিঠি দেওয়া হতো। এবারই এর ব্যতিক্রম।

 

অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি বিমানের লোকজনই কাস্টমসে অবহিত করেছিল। ফলে এই ঘটনায় কারা জড়িত সেটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোন দাবিদার না থাকায় আইন অনুযায়ী নোটিশ করা হয়েছে। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়নি। আলাদাভাবে বিমানকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে, যাতে তারা ঘটনা তদন্ত করে দোহায় তাদের কেউ জড়িত কিনা তা বের করে ব্যবস্থা নেয়।

 

তবে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, জাকির হোসেন ঢাকা কাস্টমস ছাড়ার পর এই ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিমানের নিরাপত্তা শাখা ছাড়াও কাস্টমস নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

 

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমসের এয়ারপোর্ট শাখা থেকে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। এরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

 

এ বিষয়ে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বুশরা ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে বিমানের নিরাপত্তা শাখা থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। ১৫ কার‌্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বর্তমান ঢাকা কাস্টমস কমিশনার মশিউর রহমান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ভ্যাট গোয়েন্দা প্রধানের

স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটকে বাঁচাতে অভিনব কৌশল

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দুর্নীতির অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না ঢাকা কাস্টমস হাউজের সাবেক কমিশনার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। যিনি বর্তমানে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যখনই যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন, তখনই সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এবার বাংলা অ্যাফেয়ার্সের হাতে এসেছে এই কর্মকর্তার সবশেষ কর্মস্থল ঢাকা কাস্টমস হাউজে থাকাকালিন কৌশলে বিমানের একটি স্বর্ন চোরাচালান সিন্ডিকেটকে বাঁচানোর চেষ্টার তথ্য।

 

এই কর্মকর্তা গত ২৬ আগস্ট ঢাকা কাস্টমস কমিশনার থেকে বদলি হয়ে ভ্যাট ও শুল্ক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন। এর মাত্র ১২ দিন আগে অর্থাৎ ১৪ আগস্ট বিমানে স্বর্ণ উদ্ধারের একটি ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে চিঠি দেয়।

 

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টে কাতার থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩২৬ ফ্লাইট। ওই দিন সকাল ৭টায় অবতরণের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উড়োজাহাজটি থেকে ৮ কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণ আটক করে বিমানবন্দরের শুল্ক ও কাস্টমস গোয়েন্দা দল। এবং এই ঘটনা ভিডিও করে রাখেন তারা। যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

 

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয় শুল্ক ও কাস্টমস বিভাগ। যেখানে যাত্রী, পাসপোর্ট নম্বর এবং ঠিকানা-সবই অজ্ঞাত দেয়া হয়। ঘটনা তদন্ত করে এখনো জড়িত কাউকে পায়নি সংস্থাটি।

 

এদিকে ওই ঘটনার ধারনকৃত ভিডিওতে দেখা যায় উদ্ধার করা স্বর্নের বারগুলো কার্গো অংশের মেঝের কর্ণারে সুরক্ষিতভাবে কস্টেপ দিয়ে লাগানো ছিলো। এরপরেও এই ঘটনায় আসামী অজ্ঞাতনামা রাখায় এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি দেখে বোঝাই যাচ্ছে বারগুলো কেউ একজন কস্টেপ দিয়ে সংরক্ষিত রেখেছে। আর বিমানের কার্গো অংশ একটি সংরক্ষিত এলাকা। যেখানে যাত্রী সাধারণের প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। এমনকি বিমানেরও অননুমোদিত কারো সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। ওই এলাকায় যেহেতু বিমানের অনুমোদিত কর্মী ছাড়া কারো প্রবেশাধীকার নেই। তাই এই ঘটনার দায় বিমান কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

 

এই ঘটনার ৭ দিনের মাথায় ১৪ আগস্ট অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি চিঠি দেয় কাস্টমস। আর ১২ দিনের মাথায় ঢাকা কাস্টমস ছাড়েন জাকির হোসেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে।

 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানের কার্গো অংশে সুকৌশলে কাপড় দিয়ে মোড়ানো কিছু সংখ্যক গোল্ডবার বা স্বর্ণপিন্ড সদৃশ বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশী করে একটি জিপিএস ট্র্যাকার সদৃশ বস্তু এবং ৮ কেজি ১২০ গ্রামের ৭০ টি স্বর্ণ বার পাওয়া যায়। আপনার উক্তরূপ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আপনি শুল্ককরাদি ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন।

 

আপনার উক্তরূপ কর্মকাণ্ড ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৪’ এর বিধি ৩ (৯), ৩(১০), ৭(১), ৮(১) ও ১০ এবং ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ২ (২৪), ১৭, ৩৩ (১) ও ১৫৪ এর লঙ্ঘন। ফলে আপনার আনীত পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য হওয়ায় ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৯১ মূলে সূত্রোক্ত আটক রশিদের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে পণ্যগুলো সাময়িক আটক করা হয় এবং আটক রশিদের কপি আপনাকে প্রদান করা হয়েছে।

 

আপনার (অজ্ঞাতনামা) এ কাজ ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ২ এর উপধারা (২৪) অনুসারে চোরাচালান হিসেবে বিবেচিত এবং একই আইনের ১৭, ৩৩ ও ১৫৪ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার (অজ্ঞাতনামা) উক্তরূপ কর্মকাণ্ড একই সাথে ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৪’ এর বিধি ৩ (১০), ৭(১), ৮(১) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন যা ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৭১ এর আওতায় শান্তিযোগ্য অপরাধ।

 

তাছাড়া উক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ এর অনুচ্ছেদ ০৪ (৮) ও ২৫ (১২) এবং Foreign Exchange Regulations Act, 1947 (VII of 1947) এর Section 4 এর Sub-Section (1), Section 8 এর Sub-Section (1), Import & Export (Control) Act, 1950 এর Section 3 এর Sub-Section (1) বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে, আটককৃত পণ্যসমূহ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য বিধায় তা বাজেয়াপ্ত করে ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৯১ ও ১৯২ অনুসারে উক্ত পণ্যসমূহ আটক করে বিমানবন্দরন্থ মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে।

 

এমতাবস্থায়, আটককৃত পণ্য ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এর ধারা ১৭১ (১) এর টেবিলভুক্ত দফা ৫, ৯, ২৯ ও ৪৪ অনুযায়ী সরাসরি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার সন্তোষজনক লিখিত জবাব এবং উক্ত পণ্য ক্রয় বা অর্জন ও অর্থের উৎস সম্পর্কিত দলিলাদি, এয়ারলাইন্স টিকেট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য দলিলাদিসহ আগামী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারী বরাবর দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হল। একইসাথে আপনি নিজে অথবা আপনার মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে (ক্ষমতা অর্পণ পত্র (Power of Attorney) ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ। শুনানি প্রদানে আগ্রহী হলে তা লিখিত জবাবে উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। উপর্যুক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নোটিশের লিখিত জবাব এ দপ্তরে দাখিল করা না হলে নথিতে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট দলিলাদির ভিত্তিতে আইনানুগ পন্থায় মামলাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

অভিযোগ ওঠে, বিমানের সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যদের আড়াল করতেই সুকৌশলে তৎকালীন কাস্টমস কমিশনার তরিঘরি করে এ চিঠি ইস্যু করেছেন। যার বিরুদ্ধে এর আগেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এর তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

কেননা এর আগে এই ধরনের যতো ঘটনা ঘটেছে, সবগুলো ব্যক্তি পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট বিমান কর্তৃপক্ষকে আসামী করে চিঠি দেওয়া হতো। এবারই এর ব্যতিক্রম।

 

অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি বিমানের লোকজনই কাস্টমসে অবহিত করেছিল। ফলে এই ঘটনায় কারা জড়িত সেটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোন দাবিদার না থাকায় আইন অনুযায়ী নোটিশ করা হয়েছে। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়নি। আলাদাভাবে বিমানকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে, যাতে তারা ঘটনা তদন্ত করে দোহায় তাদের কেউ জড়িত কিনা তা বের করে ব্যবস্থা নেয়।

 

তবে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, জাকির হোসেন ঢাকা কাস্টমস ছাড়ার পর এই ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিমানের নিরাপত্তা শাখা ছাড়াও কাস্টমস নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

 

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমসের এয়ারপোর্ট শাখা থেকে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। এরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

 

এ বিষয়ে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বুশরা ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে বিমানের নিরাপত্তা শাখা থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। ১৫ কার‌্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বর্তমান ঢাকা কাস্টমস কমিশনার মশিউর রহমান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।