ভ্রান্ত পরিবেশ ছাড়পত্রকে শূন্য সহনশীলতার হুঁশিয়ারি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 92
পরিবেশ সুরক্ষায় ভ্রান্ত বা বেআইনি ছাড়পত্রকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু জরিমানা নয়, বরং স্বচ্ছতা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের শ্রীপুরে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রশিক্ষণের শিরোনাম ছিল “স্ট্রেন্থেনিং এনভায়রনমেন্টাল রেগুলেটরি অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ক্যাপাসিটি ফর এ সাসটেইনেবল বাংলাদেশ”।
উপদেষ্টা বলেন, ডাইং শিল্প, সিমেন্ট কারখানা, ইটভাটা—এই ধরনের প্রধান দূষণ উৎসগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন, সবচেয়ে দূষণকারী শিল্পগুলোর নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে, যাতে জনগণ নিজেরাই রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।
তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা বা বন্যা প্রবাহ অঞ্চলে বর্জ্য ফেলার কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো ছাড়পত্র দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ছাড়া কিছু নয়। রাজনৈতিক চাপ থাকলেও এমন অনুমোদন দেওয়া চলবে না। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে বদলি হোন, কিন্তু পরিবেশের সঙ্গে আপস করবেন না।”
পরিবেশ ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সব লাল ক্যাটাগরির শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং জনগণের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একটি দূষণকারী সিরামিক কারখানাকে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। “দূষণকারীদের পুরস্কৃত নয়, বরং শাস্তি দিতে হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, অভিযোগ ট্র্যাক করার জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন, বেস্ট প্রকল্পের পরিচালক একেএম রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত বক্তব্য রাখেন।
শেষে দেশজুড়ে আসা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল থাকতে।
































