ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজা ঘিরে ২৯ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 111

দুর্গাপূজা ঘিরে ২৯ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশব্যাপী ২৯টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সামাজিক উদ্যোগ সম্প্রীতি যাত্রা। এর মধ্যে পাঁচটি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৪টি জেলা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ তথ্য জানায়।

উচ্চ ঝুঁকির জেলা হিসেবে ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মাঝারি ঝুঁকির জেলা হলো গাজীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনা। অন্যান্য জেলা নিম্ন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। মন্দির, পূজামণ্ডপ, শোভাযাত্রা কিংবা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে অতীতের হামলার ঘটনাই এই বিশ্লেষণের ভিত্তি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ বলেন, দেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পরও তাতে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সম্প্রীতি যাত্রা জানায়, শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য তারা কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন, গুজব প্রতিরোধ ব্যবস্থা, অভিযোগ মনিটরিং, দ্রুত সহায়তা টিম গঠনসহ কয়েকটি পদক্ষেপ হাতে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সংগঠনের নেতারা মনে করেন, পূজা বা ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হলে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নীরব ভূমিকার কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভয়-আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা দাবি করেন, যদি সরকার চায় তবে সহজেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব।

উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি, আর বর্তমান সরকারও একই ধারা বজায় রেখেছে। তার মতে, সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এ পরিস্থিতি বদলানো কঠিন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশব্যাপী একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে ফ্যাক্টচেকিং টিম গঠন এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজ, মাইনরিটি সংগঠন, সুফি-মাজারভিত্তিক সংগঠন, বাউল-ফকির সম্প্রদায়, আদিবাসী, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অরূপ রাহী, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক বাকি বিল্লাহ, সাংবাদিক রহমান মুফিজসহ অনেকেই।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুর্গাপূজা ঘিরে ২৯ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশব্যাপী ২৯টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সামাজিক উদ্যোগ সম্প্রীতি যাত্রা। এর মধ্যে পাঁচটি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৪টি জেলা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ তথ্য জানায়।

উচ্চ ঝুঁকির জেলা হিসেবে ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মাঝারি ঝুঁকির জেলা হলো গাজীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনা। অন্যান্য জেলা নিম্ন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। মন্দির, পূজামণ্ডপ, শোভাযাত্রা কিংবা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে অতীতের হামলার ঘটনাই এই বিশ্লেষণের ভিত্তি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ বলেন, দেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পরও তাতে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সম্প্রীতি যাত্রা জানায়, শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য তারা কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন, গুজব প্রতিরোধ ব্যবস্থা, অভিযোগ মনিটরিং, দ্রুত সহায়তা টিম গঠনসহ কয়েকটি পদক্ষেপ হাতে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সংগঠনের নেতারা মনে করেন, পূজা বা ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হলে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নীরব ভূমিকার কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভয়-আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা দাবি করেন, যদি সরকার চায় তবে সহজেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব।

উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি, আর বর্তমান সরকারও একই ধারা বজায় রেখেছে। তার মতে, সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এ পরিস্থিতি বদলানো কঠিন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশব্যাপী একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে ফ্যাক্টচেকিং টিম গঠন এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজ, মাইনরিটি সংগঠন, সুফি-মাজারভিত্তিক সংগঠন, বাউল-ফকির সম্প্রদায়, আদিবাসী, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অরূপ রাহী, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক বাকি বিল্লাহ, সাংবাদিক রহমান মুফিজসহ অনেকেই।