সৌদি আরব ঘিরে নতুন সমীকরণ!
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 133
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব নিজেদের নানামুখী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংস্কার করে তেল নির্ভরতা কমানো, কঠোর ধর্মীয় বিধি-নিষেধে শীথিলতা আনা হয়েছে ইতোমধ্যে। এবার পারমানবিক শক্তির দিকে মনোযোগী হয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি সরকার।
আর এ যাত্রায় সৌদি আরব পাশে পেয়েছে পারমানবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানকে। গত সপ্তাহে দু’দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত “স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট” স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সৌদি আরবের এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে। এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সীমায় সীমাবদ্ধ নয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর- বিশেষ করে ইসরায়েল এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি থেকে রক্ষা করা। সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, “এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা সকল সামরিক সক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ চুক্তি শুধুমাত্র প্রচলিত সেনা বাহিনী নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলবে।
যদিও চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। তারপরেও পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কেবল দীর্ঘমেয়াদী শত্রু ভারতের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, “পারমাণবিক অস্ত্র এই চুক্তির আলোচ্য বিষয় নয়। আমাদের উদ্দেশ্য কোনো আগ্রাসন নয়। তবে যদি পক্ষগুলি হুমকির মুখে পড়ে, তখন এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।”
তবে সৌদি আরবের দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলোর মত সৌদি আরবও গত সপ্তাহে কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর এবং ইরান পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন করলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার সংকেত দিয়েছে।
এক শীর্ষ সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছে, “এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা সকল সামরিক সক্ষমতাকে অন্তর্ভুক্ত করে।”
সৌদি আরবের দৃষ্টিকোণ থেকে, চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের প্রতিফলন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “সৌদি আরব একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাচ্ছে, যা পারমাণবিক শক্তিধর ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক হুমকি থেকে রক্ষা নিশ্চিত করবে।” দেশের নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী, এই চুক্তি কেবল প্রতিরক্ষামূলক, কোনো আগ্রাসনের উদ্দেশ্য নয়।
লন্ডনের আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা সংস্থা আইআইএসএস’র সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান বলেন, “সৌদি আরবের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ও প্রচলিত নিরুৎসাহক ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে নির্দেশিত।”
পাকিস্তান এশিয়ার একমাত্র পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন মুসলিম দেশ। ভারতের তুলনায় সামরিক বাজেট সীমিত হলেও পাকিস্তানের ৬ লক্ষাধিক সৈন্য এবং পারমাণবিক ক্ষমতা তাকে ভারতের সঙ্গে ত্রৈমাসিক যুদ্ধ ও সীমান্ত সংঘর্ষের মোকাবিলা করতে সক্ষম করেছে।
চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের প্রতি আক্রমণকে নিজের প্রতি আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি মন্তব্য করেন, “এটি পাকিস্তানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রক্ষেপণের একটি বড় সুযোগ, যদিও এটি অস্থিতিশীল অঞ্চলে প্রবেশ করছে।”
অর্থনৈতিক দিক থেকেও চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ভারতকে সামরিকভাবে মোকাবিলা করতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, তাই সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও আর্থিক সাহায্য সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব পাকিস্তানকে একাধিকবার অর্থ সহায়তা করেছে, সর্বশেষ ৩০ কোটি ডলারের ঋণ প্রদান করেছে।
চুক্তি নজর এড়ায়নি ভারতেরও। দেশটির সরকার জানিয়েছে, “আমরা এই উন্নয়নের প্রভাব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর বিশ্লেষণ করব।”


































