ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরছে এপিবিএন

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 140

বিমানবন্দর

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুনরায় ফিরছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ে বিমানবন্দরের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরবে এপিবিএ। আর বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবেন।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সচিব এম সাইফুল্লাহ পান্না, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একক কমান্ড, রেগুলেশন ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে কার্যকর সব সংস্থা বেবিচকের অধীনে কাজ করবে। এপিবিএন ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (অ্যাভসেক) সংস্থা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনাল ভবনের ভেতরে নিরাপত্তা দায়িত্বে ফিরবে এপিবিএন। বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স দায়িত্ব শেষ করে নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবে। প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অপারেটর ও রেগুলেটরের ভূমিকা পৃথক করার লক্ষ্যে বেবিচকের কাঠামো পুনর্গঠনে সুপারিশ জানাবে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “সরকারি সংস্থাগুলো একই লক্ষ্যে কাজ করে। আমাদের কথাবার্তা ও কর্মপদ্ধতিতে পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা আবশ্যক।”

২০২৪ সালের আগস্টে আনসার বাহিনীর বিদ্রোহের পর রাতারাতি প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ায়, সাময়িকভাবে বিমানবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে এপিবিএনকেও টার্মিনালের ভেতর থেকে দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে এপিবিএন ও অ্যাভসেকের মধ্যে একধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়। এপিবিএন অভিযোগ তোলে, তাদের এয়ারসাইডে থাকা অফিসকক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত গড়ায়। পাশাপাশি, যাত্রী হয়রানি, ভিডিও ফুটেজ সরবরাহসহ নানা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সর্বশেষ, বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালের একটি চিঠিতে এপিবিএন অধিনায়কের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরছে এপিবিএন

সর্বশেষ আপডেট ০২:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুনরায় ফিরছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ে বিমানবন্দরের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরবে এপিবিএ। আর বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবেন।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সচিব এম সাইফুল্লাহ পান্না, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একক কমান্ড, রেগুলেশন ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে কার্যকর সব সংস্থা বেবিচকের অধীনে কাজ করবে। এপিবিএন ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (অ্যাভসেক) সংস্থা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনাল ভবনের ভেতরে নিরাপত্তা দায়িত্বে ফিরবে এপিবিএন। বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স দায়িত্ব শেষ করে নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবে। প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অপারেটর ও রেগুলেটরের ভূমিকা পৃথক করার লক্ষ্যে বেবিচকের কাঠামো পুনর্গঠনে সুপারিশ জানাবে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “সরকারি সংস্থাগুলো একই লক্ষ্যে কাজ করে। আমাদের কথাবার্তা ও কর্মপদ্ধতিতে পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা আবশ্যক।”

২০২৪ সালের আগস্টে আনসার বাহিনীর বিদ্রোহের পর রাতারাতি প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ায়, সাময়িকভাবে বিমানবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে এপিবিএনকেও টার্মিনালের ভেতর থেকে দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে এপিবিএন ও অ্যাভসেকের মধ্যে একধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়। এপিবিএন অভিযোগ তোলে, তাদের এয়ারসাইডে থাকা অফিসকক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত গড়ায়। পাশাপাশি, যাত্রী হয়রানি, ভিডিও ফুটেজ সরবরাহসহ নানা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সর্বশেষ, বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালের একটি চিঠিতে এপিবিএন অধিনায়কের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে।