সিপিবি-বাসদ
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 88
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যৌথ সামরিক মহড়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিমান ও সেনাদের অবস্থানকে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পৃথক বিবৃতিতে দল দুটি মার্কিন সেনাদের এই উপস্থিতির নিন্দা জানায় এবং এটিকে ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে।
সিপিবির বিবৃতিতে সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ইতিহাসে প্রমাণিত—এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার আড়ালে বহিরাগত শক্তির কৌশলগত স্বার্থ থাকে। ‘অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল ২৫-৩’ নামের এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে দেশের সার্বভৌম স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে। তাদের মতে, চট্টগ্রাম ও গভীর সমুদ্র এলাকা বহু আগে থেকেই মার্কিন সামরিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা এবং মিয়ানমার সীমান্তসংক্রান্ত সংকট রয়েছে। ফলে সেখানে বিদেশি সেনাদের প্রবেশ দেশের নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ তার বিবৃতিতে বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর ১২০ জন সদস্য বিশেষ বিমানযোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং কয়েক দিন পর কক্সবাজারে অবস্থান নেয়। তাদের কারো পাসপোর্ট পরীক্ষা বা ইমিগ্রেশন হয়নি, যা প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেনারা কক্সবাজার বিমান ঘাঁটিতে গভীর রাতে গোপন বৈঠক ও পরিদর্শন চালিয়েছে এবং একটি হোটেলে অবস্থান করলেও তাদের নাম হোটেল রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও দাবি করেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মহড়া বাংলাদেশকে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। তুরস্ককে অস্ত্র কারখানার অনুমোদন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর, এবং আরাকান থেকে মিজোরাম-নাগাল্যান্ড পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রগঠনের পরিকল্পনার পটভূমিতে মার্কিন সেনাদের এ কার্যক্রম গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, “এই মহড়া শুধু নিরাপত্তা নয়, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো—বাংলাদেশ সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য আসেনি।”
































