দেশের প্রবীণ আলেম মুফতি আহমদুল্লাহর ইন্তেকাল
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 142
দেশের প্রখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস, চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার সদরে মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি তিন ছেলে, চার মেয়ে, অসংখ্য শিষ্য ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা আজ রাত ৯টায় পটিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১ মে চট্টগ্রামের পটিয়ার নাইখাইন গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মাওলানা ঈসা (রহ.), আর মাতামহ ছিলেন দেশের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিরি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আহমদ হাসান (রহ.)। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি জিরি মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন, প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং বিশ্বখ্যাত আলেম মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি (রহ.) ও মাওলানা রসুল খান (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। পরের বছর তিনি মুলতানের খাইরুল মাদারিসে মাওলানা মুহাম্মদ শরিফ কাশ্মীরির কাছে যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও কালাম অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৭ সালে দারুল উলুম করাচির ইফতা বিভাগে ভর্তি হয়ে মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান আল্লামা মুহাম্মদ শফি উসমানি (রহ.)-এর কাছে ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন।
১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে জিরি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২৩ বছর সেখানে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে শায়খুল হাদিস হিসেবে সহিহ বুখারির পাঠদান করেন। ১৯৯১ সালে মাওলানা হাজি মুহাম্মদ ইউনুস (রহ.)-এর আহ্বানে পটিয়া মাদরাসায় যোগ দেন এবং তিন দশক সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব লাভ করেন।
আধ্যাত্মিক দীক্ষায়ও তিনি ছিলেন অগ্রণী। জীবনের প্রথম দিকে মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর কাছে এবং পরে হাফেজ্জি হুজুর (রহ.)-এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি হাফেজ্জি হুজুরের কাছ থেকে তাসাউফের ইজাজত ও খেলাফত পান।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— দাফউল ইলতিবাস, মাশায়েখে চাটগাম (দুই খণ্ড), আন-নাফহাতুল আহমাদিয়্যাহ ফিল খুতুবাতিল মিম্বারিয়্যাহ, তাজকেরাতুন নুর, তাসকিনুল খাওয়াতির ফি শরহিল আশবাহি ওয়ান্নাওয়াযির, ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ারবাজার ও মাল্টিলেবেল মার্কেটিং, যুগোপযোগী দশ মাসায়েল, মাজহাব ও মাজহাবের প্রয়োজনীয়তা।




































