ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ বছরে ১৪তম সরকার পতন

নেপালের রাজনীতি কেন এতো অস্থির!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 406

নেপালের রাজনীতি কেন এতো অস্থির! ছবি: রয়টার্স/আদনান আবিদি

হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস কিন্তু রঙিন নয়, বরং রক্তাক্ত এবং অস্থিরতায় ভরা।

 

গত ১৭ বছরে নেপালে ১৪তম বারের মতো সরকার পতন ঘটেছে। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার পরও, দেশটি এখনো খুঁজে ফিরছে স্থিতিশীলতার পথ।

নেপালের রাজনৈতিক টানাপোড়ন শুরু আজকের নয়। ১৯৫১ সালে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে রানা রাজাদের পতন ঘটে। দেশটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের পথে হাঁটলেও, ১৯৬১ সালে রাজা মহেন্দ্র রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে পুনরায় শক্তিশালী করেন রাজতন্ত্রকে।

 

১৯৯০ সালের গণআন্দোলন নতুন মোড় আনে নেপালের রাজনীতিতে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়। কিন্তু শান্তির স্বপ্ন খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় বছরের মাথায়, ১৯৯৬ সালে শুরু হয় মাওবাদীদের সশস্ত্র আন্দোলন।

দশকব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কেড়ে নেয় প্রায় ১৭ হাজার প্রাণ। পাহাড়-পর্বত, গ্রাম-শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত ২০০৬ সালে চূড়ান্তভাবে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ২০০৮ সালে নেপাল প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

 

২০১৫ সালে গৃহীত হয় নেপালের নতুন সংবিধান। অনেকের ধারণা ছিল- এবার হয়তো দেশ প্রবেশ করবে স্থিতিশীলতার পথে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরও নেপালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

রাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে এখনো আন্দোলন চলছে কাঠমান্ডুর রাস্তায়। মার্চ মাসে বিক্ষোভ দমাতে সেনা মোতায়েন করা হয়। তারই ছয় মাসের মাথায় অলি সরকারের পতন প্রমাণ করল- দেশটি এখনো অস্থিরতার ঘূর্ণিপাকে বন্দি।

তাহলে কেন এতোবার সরকার পরিবর্তন হয় নেপালে? প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভক্তি। মাওবাদী, নেপালি কংগ্রেস, ইউনিফাইড মার্কসিস্ট – লেনিনিস্ট- প্রত্যেকেরই নিজস্ব ক্ষমতার লড়াই। জোট সরকার গঠনের পর স্বার্থসংঘাত শুরু হয়, আর অচিরেই ভেঙে পড়ে সরকার।

দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক বৈষম্য। পাহাড়, তরাই আর জনজাতি- সবার চাহিদা এক নয়। সংবিধানে প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। এই অমিল রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করে।

তৃতীয়ত, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। ভারতের প্রভাবশালী উপস্থিতি আর চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। এক পক্ষ ভারতমুখী অন্য পক্ষ চীনমুখী। এই বিভাজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

কিন্তু সবকিছুর মাঝেও নেপালের তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন দেখছে ভিন্ন এক ভবিষ্যতের। তারা চায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, উন্নয়ন- কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়নে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১৭ বছরে ১৪তম সরকার পতন

নেপালের রাজনীতি কেন এতো অস্থির!

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস কিন্তু রঙিন নয়, বরং রক্তাক্ত এবং অস্থিরতায় ভরা।

 

গত ১৭ বছরে নেপালে ১৪তম বারের মতো সরকার পতন ঘটেছে। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার পরও, দেশটি এখনো খুঁজে ফিরছে স্থিতিশীলতার পথ।

নেপালের রাজনৈতিক টানাপোড়ন শুরু আজকের নয়। ১৯৫১ সালে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে রানা রাজাদের পতন ঘটে। দেশটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের পথে হাঁটলেও, ১৯৬১ সালে রাজা মহেন্দ্র রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে পুনরায় শক্তিশালী করেন রাজতন্ত্রকে।

 

১৯৯০ সালের গণআন্দোলন নতুন মোড় আনে নেপালের রাজনীতিতে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়। কিন্তু শান্তির স্বপ্ন খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় বছরের মাথায়, ১৯৯৬ সালে শুরু হয় মাওবাদীদের সশস্ত্র আন্দোলন।

দশকব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কেড়ে নেয় প্রায় ১৭ হাজার প্রাণ। পাহাড়-পর্বত, গ্রাম-শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত ২০০৬ সালে চূড়ান্তভাবে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ২০০৮ সালে নেপাল প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

 

২০১৫ সালে গৃহীত হয় নেপালের নতুন সংবিধান। অনেকের ধারণা ছিল- এবার হয়তো দেশ প্রবেশ করবে স্থিতিশীলতার পথে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরও নেপালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

রাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে এখনো আন্দোলন চলছে কাঠমান্ডুর রাস্তায়। মার্চ মাসে বিক্ষোভ দমাতে সেনা মোতায়েন করা হয়। তারই ছয় মাসের মাথায় অলি সরকারের পতন প্রমাণ করল- দেশটি এখনো অস্থিরতার ঘূর্ণিপাকে বন্দি।

তাহলে কেন এতোবার সরকার পরিবর্তন হয় নেপালে? প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভক্তি। মাওবাদী, নেপালি কংগ্রেস, ইউনিফাইড মার্কসিস্ট – লেনিনিস্ট- প্রত্যেকেরই নিজস্ব ক্ষমতার লড়াই। জোট সরকার গঠনের পর স্বার্থসংঘাত শুরু হয়, আর অচিরেই ভেঙে পড়ে সরকার।

দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক বৈষম্য। পাহাড়, তরাই আর জনজাতি- সবার চাহিদা এক নয়। সংবিধানে প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। এই অমিল রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করে।

তৃতীয়ত, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। ভারতের প্রভাবশালী উপস্থিতি আর চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। এক পক্ষ ভারতমুখী অন্য পক্ষ চীনমুখী। এই বিভাজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

কিন্তু সবকিছুর মাঝেও নেপালের তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন দেখছে ভিন্ন এক ভবিষ্যতের। তারা চায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, উন্নয়ন- কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়নে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।