ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এ আসছে জাপানি কম্পানি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 565

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

যাত্রী  ও কার্গো সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর দায়িত্বে আসছে জাপানি কম্পানি। বিমানের পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর কাজ করবে সেই কম্পানি। এতে করে একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একচ্ছত্র আধিপত্য কমতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বাসসকে বলেন, ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করব।’ আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি জানান।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সেবা উন্নত করা। আমরা সমন্বিত একটি পদ্ধতি চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই না কোনোভাবে বিমান প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ুক, তবে একই সঙ্গে চাই না যাত্রীসেবাও নষ্ট হয়ে যাক।’ নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিকমানের সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা আনা জরুরি।

সদ্য নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (বেবিচক) এবং একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বেবিচক সূত্র জানায়, জাপনি কম্পানিটি ব্যাপক পরিচালন ও রাজস্ব ভাগাভাগির অধিকার চাইছে। আবার বিমানকে প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরী হয়েছে মূল দ্বন্দ্ব।

সিএএবি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দুই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, আর উপদেষ্টা বশির শেষ দিনের আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন। লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) সহ সব স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থায় বিমানের সাথে টার্মিনাল পরিচালনাকারী বেসরকারি অংশীদারের মধ্যে একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) স্বাক্ষরিত হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের মতে, যদি বিমান দুই বছরের মধ্যে কর্মদক্ষতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অপারেটর বিমানের পাশাপাশি একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিকে নিয়োগ দিতে পারবে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিষয়টি বহু বছর ধরে বিতর্কিত। অপসারিত পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ইঙ্গিত দিয়েছিল যে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পেতে পারে। বিদেশি এয়ারলাইনগুলো বিমানের সেবার মান নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

বর্তমানে বিমানই বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরের একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার, প্রায় ৪০টি বিদেশি এয়ারলাইনের সেবা দিচ্ছে। এ খাতে তাদের বার্ষিক আয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকা।

কর্মকর্তারা দাবি করেন, নতুন সরঞ্জাম ও জনবল যুক্ত হওয়ায় সেবার মান উন্নত হয়েছে। তবে যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলো এখনও দেরি, অদক্ষতা এবং মাঝেমধ্যে চুরির অভিযোগ তোলে।

কিছু বিদেশি এয়ারলাইন অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, বিমানের ফি প্রদান সত্ত্বেও তারা প্রায়ই নিজেদের কর্মী নিয়োগ করে মান বজায় রাখতে।

সাবেক সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এইচএসআইএ কর্তৃপক্ষের করা এক জরিপে ৯৩ শতাংশ এয়ারলাইন তৃতীয় টার্মিনালে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।

তবে বিমানের কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি, ২০২৩ সালে তারা ৫৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং গত এক বছরে ৩ হাজার ৬০০ নতুন গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট কেনায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আরও ক্রয় ও জনবল নিয়োগ চলছে।

একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিমানের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র যুক্ত হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ প্রকার নতুন সরঞ্জাম যুক্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিদেশি অপারেটরের হাতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ছেড়ে দিলে ‘রাষ্ট্রীয় রাজস্বে বড় ক্ষতি’ হবে।

২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)’র বড় অর্থায়নে তৈরি হয়েছে। এর ফলে এইচএসআইএ-এর যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে এবং কার্গো পরিবহন সক্ষমতা ১২ লাখ টনে উন্নীত হবে।

২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থাপনাটিতে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এ আসছে জাপানি কম্পানি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যাত্রী  ও কার্গো সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর দায়িত্বে আসছে জাপানি কম্পানি। বিমানের পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর কাজ করবে সেই কম্পানি। এতে করে একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসেবে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একচ্ছত্র আধিপত্য কমতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বাসসকে বলেন, ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করব।’ আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি জানান।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সেবা উন্নত করা। আমরা সমন্বিত একটি পদ্ধতি চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই না কোনোভাবে বিমান প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ুক, তবে একই সঙ্গে চাই না যাত্রীসেবাও নষ্ট হয়ে যাক।’ নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিকমানের সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা আনা জরুরি।

সদ্য নির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (বেবিচক) এবং একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বেবিচক সূত্র জানায়, জাপনি কম্পানিটি ব্যাপক পরিচালন ও রাজস্ব ভাগাভাগির অধিকার চাইছে। আবার বিমানকে প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরী হয়েছে মূল দ্বন্দ্ব।

সিএএবি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দুই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, আর উপদেষ্টা বশির শেষ দিনের আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন। লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) সহ সব স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থায় বিমানের সাথে টার্মিনাল পরিচালনাকারী বেসরকারি অংশীদারের মধ্যে একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) স্বাক্ষরিত হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের মতে, যদি বিমান দুই বছরের মধ্যে কর্মদক্ষতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অপারেটর বিমানের পাশাপাশি একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিকে নিয়োগ দিতে পারবে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিষয়টি বহু বছর ধরে বিতর্কিত। অপসারিত পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ইঙ্গিত দিয়েছিল যে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পেতে পারে। বিদেশি এয়ারলাইনগুলো বিমানের সেবার মান নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

বর্তমানে বিমানই বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরের একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার, প্রায় ৪০টি বিদেশি এয়ারলাইনের সেবা দিচ্ছে। এ খাতে তাদের বার্ষিক আয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকা।

কর্মকর্তারা দাবি করেন, নতুন সরঞ্জাম ও জনবল যুক্ত হওয়ায় সেবার মান উন্নত হয়েছে। তবে যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলো এখনও দেরি, অদক্ষতা এবং মাঝেমধ্যে চুরির অভিযোগ তোলে।

কিছু বিদেশি এয়ারলাইন অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, বিমানের ফি প্রদান সত্ত্বেও তারা প্রায়ই নিজেদের কর্মী নিয়োগ করে মান বজায় রাখতে।

সাবেক সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এইচএসআইএ কর্তৃপক্ষের করা এক জরিপে ৯৩ শতাংশ এয়ারলাইন তৃতীয় টার্মিনালে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।

তবে বিমানের কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি, ২০২৩ সালে তারা ৫৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং গত এক বছরে ৩ হাজার ৬০০ নতুন গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট কেনায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আরও ক্রয় ও জনবল নিয়োগ চলছে।

একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিমানের গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র যুক্ত হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ প্রকার নতুন সরঞ্জাম যুক্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিদেশি অপারেটরের হাতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ছেড়ে দিলে ‘রাষ্ট্রীয় রাজস্বে বড় ক্ষতি’ হবে।

২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)’র বড় অর্থায়নে তৈরি হয়েছে। এর ফলে এইচএসআইএ-এর যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে এবং কার্গো পরিবহন সক্ষমতা ১২ লাখ টনে উন্নীত হবে।

২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থাপনাটিতে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক থাকবে।