ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ, নেপালে গোলশূন্য বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 98

সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ, নেপালে গোলশূন্য বাংলাদেশ

আশি-নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে জয়ের সেই দিনগুলো এখন ইতিহাস। সময়ের পরিক্রমায় গত পাঁচ বছরে নেপালের বিপক্ষে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। সর্বশেষ চার বছর আগে হয়েছিল ড্র। ২০২২ সালের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ গোলে।

 

তবে শনিবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নেপাল ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। জামাল ভূঁইয়ারা গোলশূন্য ড্র করে অন্তত হারের বৃত্ত থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

আগামী অক্টোবরে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ সামনে রেখে দুই দলই ফিফা উইন্ডোতে নিজেদের প্রস্তুত করতে মাঠে নামে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে সমানভাবে ভাগাভাগি করতে হয়েছে ফল।

 

২০২১ সালের মালদ্বীপ সাফে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ ছিল অঘোষিত সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচে জিতলে ফাইনালে উঠতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ড্র হওয়ায় নেপাল ফাইনালে যায় এবং ভারতের মুখোমুখি হয়। একই বছর মার্চে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক নেপাল ২-১ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এরপর ২৭ মার্চ রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশ ড্র করেছিল। চার বছর পর আবার কাঠমান্ডুতেই ড্র করল লাল-সবুজরা।

 

দশরথ স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। এএফসি জানিয়েছে, বড় কোনো টুর্নামেন্টের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ ভারী হয়ে যায়। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে দুই দলের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। স্বাগতিক নেপালি খেলোয়াড়রাই মাঠের সমস্যায় একাধিকবার আঘাত পান।

 

বাংলাদেশের নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমা খেলেননি। অভিষেক ম্যাচে সুজন হোসেনকে বড় কোনো পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। নেপাল আক্রমণ করলেও গোলের মতো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

 

প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো ইন ধরতে গোলরক্ষক কিরণ এগিয়ে এসে বল ফসকান। ফাঁকা পোস্ট সামনে পেয়েও বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

 

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খানিকটা গোছানো ফুটবল খেলে। বল দখল, পাসিংয়ে পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায়। অন্যদিকে নেপাল দুই বছর ঘরোয়া লিগ না খেললেও দেড় মাসের জাতীয় দলীয় প্রস্তুতিতে তুলনামূলক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে। নতুন কোচ ম্যাট রসের অধীনে তারা বিল্ড আপ ফুটবলের চেষ্টা করেছে।

দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। সেই ম্যাচে জামালরা জয়ের মুখ দেখবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ, নেপালে গোলশূন্য বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আশি-নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে জয়ের সেই দিনগুলো এখন ইতিহাস। সময়ের পরিক্রমায় গত পাঁচ বছরে নেপালের বিপক্ষে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। সর্বশেষ চার বছর আগে হয়েছিল ড্র। ২০২২ সালের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ গোলে।

 

তবে শনিবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নেপাল ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। জামাল ভূঁইয়ারা গোলশূন্য ড্র করে অন্তত হারের বৃত্ত থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

আগামী অক্টোবরে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ সামনে রেখে দুই দলই ফিফা উইন্ডোতে নিজেদের প্রস্তুত করতে মাঠে নামে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে সমানভাবে ভাগাভাগি করতে হয়েছে ফল।

 

২০২১ সালের মালদ্বীপ সাফে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ ছিল অঘোষিত সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচে জিতলে ফাইনালে উঠতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ড্র হওয়ায় নেপাল ফাইনালে যায় এবং ভারতের মুখোমুখি হয়। একই বছর মার্চে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক নেপাল ২-১ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এরপর ২৭ মার্চ রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশ ড্র করেছিল। চার বছর পর আবার কাঠমান্ডুতেই ড্র করল লাল-সবুজরা।

 

দশরথ স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। এএফসি জানিয়েছে, বড় কোনো টুর্নামেন্টের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ ভারী হয়ে যায়। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে দুই দলের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। স্বাগতিক নেপালি খেলোয়াড়রাই মাঠের সমস্যায় একাধিকবার আঘাত পান।

 

বাংলাদেশের নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমা খেলেননি। অভিষেক ম্যাচে সুজন হোসেনকে বড় কোনো পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। নেপাল আক্রমণ করলেও গোলের মতো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

 

প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো ইন ধরতে গোলরক্ষক কিরণ এগিয়ে এসে বল ফসকান। ফাঁকা পোস্ট সামনে পেয়েও বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

 

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খানিকটা গোছানো ফুটবল খেলে। বল দখল, পাসিংয়ে পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায়। অন্যদিকে নেপাল দুই বছর ঘরোয়া লিগ না খেললেও দেড় মাসের জাতীয় দলীয় প্রস্তুতিতে তুলনামূলক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে। নতুন কোচ ম্যাট রসের অধীনে তারা বিল্ড আপ ফুটবলের চেষ্টা করেছে।

দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। সেই ম্যাচে জামালরা জয়ের মুখ দেখবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয়।