ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাজে ফিরতে দেরি হওয়ায় জেলেকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 95

কাজে ফিরতে দেড়ি হওয়ায় জেলেকে পিটিয়ে হত্যা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

পটুয়াখালীর মৎস্যবন্দর আলীপুরে কাজে বিলম্বে আসায় তিন জেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এতে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে। এরপর তাদেরকে মাছ শিকারে যেতে বাধ্য করে সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধরের শিকার হওয়া জেলেদের মধ্যে জেলে হেলাল হাওলাদার (২৪) সাগরে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুনরায় ট্রলারসহ ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, রাতে গুরুতর অসুস্থ হেলালকে হাসপাতালে না এনে শুক্রবার সকালে নিয়ে আসা হয়েছে। ততক্ষণে তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। সবশেষ কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নিয়ে যাবার পথে আলীপুরেই তার মৃত্যু হয় বলে হেলালের স্বজনরা দাবি করেছেন।

 

নিহত জেলে হেলাল হাওলাদারের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামে। মারধরের শিকার অপর আহতরা হলেন সাদ্দাম আকন (১৮) ও আসাদুল হাওলাদার (২০)। এদের বাড়িও একই এলাকায়।

 

মহিপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আলীপুর বাজারে আল আমিনের মাছের গদিতে ওই তিন জেলেকে মারধর করা হয়। এরপর তাদের সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হেলালের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ট্রলার নিয়ে আলীপুরে ফিরে আসে তারা। সারারাত খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থান করার পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হেলালকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

 

হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে বরিশালে নেওয়ার পথে আলীপুর মহাসড়কেই তার মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান অপু বলেন, হেলাল নামে একজনকে মৃত্যু অবস্থায় কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তার শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখা গেছে।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রলার মালিক মন্টু ফরাজী (৪৮) সহযোগী সোহাগ হাওলাদার (৩০) ও মেশারেফকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করলেও তাদের আটক করতে পারেনি। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কাজে ফিরতে দেরি হওয়ায় জেলেকে পিটিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর মৎস্যবন্দর আলীপুরে কাজে বিলম্বে আসায় তিন জেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এতে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে। এরপর তাদেরকে মাছ শিকারে যেতে বাধ্য করে সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধরের শিকার হওয়া জেলেদের মধ্যে জেলে হেলাল হাওলাদার (২৪) সাগরে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুনরায় ট্রলারসহ ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, রাতে গুরুতর অসুস্থ হেলালকে হাসপাতালে না এনে শুক্রবার সকালে নিয়ে আসা হয়েছে। ততক্ষণে তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। সবশেষ কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নিয়ে যাবার পথে আলীপুরেই তার মৃত্যু হয় বলে হেলালের স্বজনরা দাবি করেছেন।

 

নিহত জেলে হেলাল হাওলাদারের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী গ্রামে। মারধরের শিকার অপর আহতরা হলেন সাদ্দাম আকন (১৮) ও আসাদুল হাওলাদার (২০)। এদের বাড়িও একই এলাকায়।

 

মহিপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আলীপুর বাজারে আল আমিনের মাছের গদিতে ওই তিন জেলেকে মারধর করা হয়। এরপর তাদের সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হেলালের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ট্রলার নিয়ে আলীপুরে ফিরে আসে তারা। সারারাত খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবস্থান করার পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হেলালকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

 

হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে বরিশালে নেওয়ার পথে আলীপুর মহাসড়কেই তার মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান অপু বলেন, হেলাল নামে একজনকে মৃত্যু অবস্থায় কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তার শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখা গেছে।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রলার মালিক মন্টু ফরাজী (৪৮) সহযোগী সোহাগ হাওলাদার (৩০) ও মেশারেফকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করলেও তাদের আটক করতে পারেনি। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।