মব সন্ত্রাস ও শ্রমিক হত্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকারের
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 85
দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সন্ত্রাস এবং শ্রমিক হত্যার দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে বলে মনে করছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম বলছে, “আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব আক্রমণ, মানুষের জীবন বিপন্ন করা, শ্রমিক হত্যা, আদিবাসী নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের প্রাণহানি, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিদ্বেষ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরের জবরদস্তি; সবই প্রমাণ করে যে, এই অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থে কোনো পরিবর্তনে আগ্রহী নয়।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, ডা. হারুন উর রশীদ, ড. মাহা মির্জা, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এবং মারজিয়া প্রভা।
বিবৃতিতে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব আক্রমণ ও শ্রমিক হত্যার বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়হীনভাবে এসব ঘটনা ঘটতে দেয়নি, বরং জনগণের ন্যূনতম মানবাধিকারকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আগের সরকারের মতোই শ্রমিকবিরোধী, নারীবিরোধী, জাতিসত্তাবিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা গ্রহণ করছে এই সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা বা সমর্থনের কারণে দেশে ‘মবোক্রেসি’ চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রংপুরে তারাগঞ্জে দুইজন ভ্যানচালক রুপলাল দাস ও প্রদীপ দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা প্রচারণায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ পুলিশ হামলাকারীদের ধরে না রেখে ফেসবুকের একজন পোস্টদাতাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মব হামলার প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন প্রকাশ করেছে।
লালমনিরহাটে বৃদ্ধ নাপিত পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অপবাদে মব দিয়ে পেটানো হয়েছে, পুলিশ নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার না করে পরেশ ও বিষ্ণুকেই গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক আলোচনা সভায় মব সন্ত্রাস চালানো হয়েছে; পরে পুলিশ সন্ত্রাসীদের না ধরে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে দ্রুততা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড মানছে না, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জের ধরে মামলা ও বন্দিত্ব স্বাভাবিকীকরণ করা হচ্ছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর জামিন সংরক্ষিত থাকলেও সাধারণ নাগরিকরা তাদের জামিনের অধিকার পাচ্ছেন না। এভাবেই প্রশাসনিক ও বিচারিক ব্যবস্থার গোষ্ঠীগত স্বার্থরক্ষা ও ফ্যাসিস্ট কাঠামোর কারণে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরে হাসিনার সরকারকে ফিরিয়ে এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিবৃতিতে শ্রমিক হত্যা, নারীর প্রতি সহিংসতা, লুটপাট ও হামলার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই প্রত্যাহার এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।































