ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিসমত উল্লাহ-বালাজান কলেজ নিয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 102

কিসমত উল্লাহ-বালাজান কলেজ নিয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবস্থিত কিসমত উল্লাহ-বালাজান কৃষি ও কারিগরি ইন্সটিটিউটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি কুচক্রি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। অত্র এলাকার একমাত্র কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। যা সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালের নীতিমালার পরিপন্থি। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এসব ভুয়া সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

কলেজে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় সংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘‘কলেজে শিক্ষার্থী নেই, ক্লাস নেই তবুও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা’’ শীর্ষক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত বলেন, অত্র কৃষি কলেজে মোট শিক্ষার্থী ১৮৫ জন। যদিও প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রতিবছর নির্ধারিত সর্বোচ্চ আসন ৫০ জন। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন। এনটিআরসি থেকে কলেজের শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত না হলেও খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত ক্লাস করানো হয়। যার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের চেয়ে এই কৃষি কলেজে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বেশি এবং পাসের হার শতকরা প্রায় ৯০ শতাংশ।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত প্রশ্নে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার সময় অত্র কলেজের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকে, বিধায় বহিরাগতদের পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সেখানে বহিরাগতদের দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারিগরি বোর্ড কর্তৃক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ এবং বোর্ডের ফলাফল নির্ধারণ করায় সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কলেজটি পরিচালনা করা হয়ে থাকে। অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কলেজে উপস্থিত থেকে অফিস সহকারীসহ অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। কলেজের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে ঢাকায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং রংপুর আঞ্চলিক অফিস ও কুড়িগ্রাম অফিসে যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, অত্র চরাঞ্চলে রৌমারীতে একমাত্র কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারিভাবে ভবন, আসবাবপত্র ও অনুদান পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থী বেশি থাকায় ও ফলাফল সন্তোষজনক থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহকারী আমজাদ হোসেন বলেন, অত্র কৃষি কলেজে সনদ বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। “সনদ বিক্রি করে কোটিপতি হয়েছি” এই অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার পৈতৃক জমি বিক্রি করে ৬৬ লক্ষ টাকা, জমি বন্ধক রেখে ১০ লক্ষ টাকা এবং এনজিও থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা লোন নিয়ে চাকুরীর সময়ের বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া।

ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজে না থেকে ঢাকায় কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

সংবাদ সম্মেলনে মোসাঃ কাকলী ইয়াসমিনসহ সকল কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কর্মচারীরা কলেজটির ভাবমূর্তি রক্ষায় সংবাদিক সমাজ ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কিসমত উল্লাহ-বালাজান কলেজ নিয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অবস্থিত কিসমত উল্লাহ-বালাজান কৃষি ও কারিগরি ইন্সটিটিউটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি কুচক্রি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। অত্র এলাকার একমাত্র কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। যা সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালের নীতিমালার পরিপন্থি। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এসব ভুয়া সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

কলেজে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় সংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘‘কলেজে শিক্ষার্থী নেই, ক্লাস নেই তবুও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা’’ শীর্ষক অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত বলেন, অত্র কৃষি কলেজে মোট শিক্ষার্থী ১৮৫ জন। যদিও প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রতিবছর নির্ধারিত সর্বোচ্চ আসন ৫০ জন। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন। এনটিআরসি থেকে কলেজের শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত না হলেও খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত ক্লাস করানো হয়। যার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের চেয়ে এই কৃষি কলেজে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বেশি এবং পাসের হার শতকরা প্রায় ৯০ শতাংশ।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত প্রশ্নে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার সময় অত্র কলেজের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকে, বিধায় বহিরাগতদের পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সেখানে বহিরাগতদের দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারিগরি বোর্ড কর্তৃক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ এবং বোর্ডের ফলাফল নির্ধারণ করায় সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কলেজটি পরিচালনা করা হয়ে থাকে। অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কলেজে উপস্থিত থেকে অফিস সহকারীসহ অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। কলেজের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে ঢাকায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং রংপুর আঞ্চলিক অফিস ও কুড়িগ্রাম অফিসে যেতে হয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, অত্র চরাঞ্চলে রৌমারীতে একমাত্র কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারিভাবে ভবন, আসবাবপত্র ও অনুদান পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থী বেশি থাকায় ও ফলাফল সন্তোষজনক থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহকারী আমজাদ হোসেন বলেন, অত্র কৃষি কলেজে সনদ বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। “সনদ বিক্রি করে কোটিপতি হয়েছি” এই অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার পৈতৃক জমি বিক্রি করে ৬৬ লক্ষ টাকা, জমি বন্ধক রেখে ১০ লক্ষ টাকা এবং এনজিও থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা লোন নিয়ে চাকুরীর সময়ের বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া।

ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজে না থেকে ঢাকায় কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

সংবাদ সম্মেলনে মোসাঃ কাকলী ইয়াসমিনসহ সকল কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কর্মচারীরা কলেজটির ভাবমূর্তি রক্ষায় সংবাদিক সমাজ ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।