ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদ

আমাকে তারা বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, পেটিয়েছে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 85

বুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন একজন পুলিশ সদস্য। জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর নাম রাফিদ জামান খান। তিনি বুয়েটের শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন।

রাফিদ জামান খান বলেন, পেছন থেকে একজন পুলিশ তার মুখ চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনার পরে ভিডিও দেখে তিনি নিশ্চিত হন, যিনি ফেলে দিয়েছিলেন তিনি ডিসি মাসুদ আলম।

রাফিদ আরও বলেন, ‘মাটিতে ফেলার পরে আমাকে খুবই অপ্রফেশনালভাবে আচরণ করা হয়েছে। তারা আমাকে বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, পেটিয়েছে। এমনকি একজন সদস্য হেলমেট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেছেন।’

এর আগে, বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ছোড়ে। পরে লাঠিচার্জও করা হয়। এ সময় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম একজন শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন; এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তবে বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ডিসি মাসুদ আলমকে নিয়ে ছড়ানো ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ছবি প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিএমপি জানায়, ছবিটি বাস্তব নয়।

কিন্তু তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং আসল ছবিকেই এআই-জেনারেটেড বলে প্রচার করেছে ডিএমপি। একইভাবে তথ্য যাচাইকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবও জানায়, বুয়েট শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি আসল এবং এটি কৃত্রিমভাবে বানানো নয়।

রাফিদ দাবি করেন, ছবিতে যে শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে তিনি নিজেই। তার ভাষায়, ‘এটা কোনোভাবেই এআই জেনারেটেড না।’

তিনি জানান, আন্দোলনের দিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে সামনে আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তিতে যাব না, এ কারণে আমি সড়কে বসে পড়ি। যাতে পুলিশের কাছে মনে না হয় আমরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আছি।’

রাফিদ আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। আমি যেখানে ছিলাম তার কিছুটা পেছনে শেলটি পড়ে। এরপর সাউন্ড গ্রেনেডও ছোড়া হয়। এতে অনেকে পিছু হটে যায়, সামনের সারির অনেকে আটকা পড়ে। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই অবস্থায় আমি আটকা পড়ি। কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর দেখি আমাকে একটানা পেটানো হচ্ছে। পেছন থেকেও আঘাত করছিল।’

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার রাতেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত বুয়েট শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।

সূত্র: প্রথম আলো

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদ

আমাকে তারা বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, পেটিয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন একজন পুলিশ সদস্য। জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর নাম রাফিদ জামান খান। তিনি বুয়েটের শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থী এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন।

রাফিদ জামান খান বলেন, পেছন থেকে একজন পুলিশ তার মুখ চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনার পরে ভিডিও দেখে তিনি নিশ্চিত হন, যিনি ফেলে দিয়েছিলেন তিনি ডিসি মাসুদ আলম।

রাফিদ আরও বলেন, ‘মাটিতে ফেলার পরে আমাকে খুবই অপ্রফেশনালভাবে আচরণ করা হয়েছে। তারা আমাকে বুট দিয়ে লাথি মেরেছে, পেটিয়েছে। এমনকি একজন সদস্য হেলমেট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেছেন।’

এর আগে, বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ছোড়ে। পরে লাঠিচার্জও করা হয়। এ সময় ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম একজন শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছেন; এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তবে বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ডিসি মাসুদ আলমকে নিয়ে ছড়ানো ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ছবি প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিএমপি জানায়, ছবিটি বাস্তব নয়।

কিন্তু তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং আসল ছবিকেই এআই-জেনারেটেড বলে প্রচার করেছে ডিএমপি। একইভাবে তথ্য যাচাইকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবও জানায়, বুয়েট শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবিটি আসল এবং এটি কৃত্রিমভাবে বানানো নয়।

রাফিদ দাবি করেন, ছবিতে যে শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে তিনি নিজেই। তার ভাষায়, ‘এটা কোনোভাবেই এআই জেনারেটেড না।’

তিনি জানান, আন্দোলনের দিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে সামনে আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তিতে যাব না, এ কারণে আমি সড়কে বসে পড়ি। যাতে পুলিশের কাছে মনে না হয় আমরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আছি।’

রাফিদ আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। আমি যেখানে ছিলাম তার কিছুটা পেছনে শেলটি পড়ে। এরপর সাউন্ড গ্রেনেডও ছোড়া হয়। এতে অনেকে পিছু হটে যায়, সামনের সারির অনেকে আটকা পড়ে। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই অবস্থায় আমি আটকা পড়ি। কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর দেখি আমাকে একটানা পেটানো হচ্ছে। পেছন থেকেও আঘাত করছিল।’

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার রাতেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত বুয়েট শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।

সূত্র: প্রথম আলো