সচিবালয়ের পথে বুয়েট শিক্ষার্থীরা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 94
‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধের পর সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহবাগ থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন তাঁরা।
শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। জানা গেছে, অন্তত ৮ থেকে ১০টি সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করা হয়েছে।
অবস্থার অবনতি ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া যমুনার দিকে সেনা সদস্যদের যেতে দেখা গেছে এবং যমুনার প্রবেশমুখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এরআগে বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় তিন দফা দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ শুরু করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এতে শাহবাগমুখী চারটি সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরের পর প্রায় ৫ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগ ছাড়েন তারা। রাতে কর্মসূচি শেষ করে চলে যাওয়ার সময় প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু বুধবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গতকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ জানান, তিন দফা দাবি আদায়ে বুধবার সকাল ১০টায় আবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হবে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রুয়েট) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা লংমার্চ করে বুধবার সকালে শাহবাগ মোড় অবরোধ করবেন। দাবি আদায়ে সেখান থেকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাবেন।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১। ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২। টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন এক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IEB-BAETE অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।































