ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 67

প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। প্রতিস্থাপনের পর সেই ফুসফুস ৯ দিন কার্যকর ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউট হাসপাতালে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। যে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সেটি ছিল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া। আর যাঁর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন একজন ব্রেইন-ডেড রোগী।

মানবদেহে পশু-পাখির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনকে বলা হয় জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউটের সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাস্টিন চ্যান ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, “আমরা কয়েকজন ব্রেইন-ডেড রোগীর দেহে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত (জিএম) শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছিলাম। তাদের মধ্যে একজনের দেহে এই ফুসফুস ১০ দিন কার্যকর ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই অপারেশনের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি যে এসব ফুসফুস স্বাধীনভাবে মানবদেহে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে না। আমাদের অপারেশন হয়তো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেনি, তবে এটি একটি দারুণ এবং আশাব্যঞ্জক প্রচেষ্টা ছিল।”

ডা. চ্যানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন, ফুসফুস প্রতিস্থাপন ও শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ফিশার। তিনি দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে হৃদ্‌পিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত ও কিডনির অকার্যকারিতা সমস্যায় ভোগা রোগীদের মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান এবং বেঁচে থাকতে পারেন। এর প্রধান কারণ হলো, এসব অঙ্গ অত্যন্ত দুর্লভ।”

তিনি আরও বলেন, “জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন এসব রোগীর জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর অগ্রগতি হয়েছে। এনওয়াইইউ হাসপাতালে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের এই অপারেশন নিঃসন্দেহে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের ক্ষেত্রে একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এটি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে যে আমরা সঠিক পথে আছি এবং এ বিষয়ে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান আরও বাড়াতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবদেহে পশু-পাখির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ব্রেইন-ডেড রোগীদের পাশাপাশি অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ ও মরণাপন্ন রোগীদেরও বেছে নেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে।

তবে এসব প্রতিস্থাপনের কোনোটি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পায়নি। প্রতিস্থাপনের পর কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে অ্যান্ড্রু ফিশার বলেন, “একজন ফুসফুস বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি বলতে পারি, ফুসফুস একদিকে যেমন অক্সিজেন সরবরাহ করে, তেমনি মানবদেহে রোগজীবাণুর প্রবেশের পথও তৈরি করে। আবার প্রবেশ করা জীবাণুকে প্রতিহত করার প্রাথমিক কাজটিও ফুসফুস করে থাকে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ।”

“ফলে অন্য কোনো প্রাণীর ফুসফুস মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা হলে অনেক সময় মানবদেহ নতুন ফুসফুসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। এটিই জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানবদেহে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। প্রতিস্থাপনের পর সেই ফুসফুস ৯ দিন কার্যকর ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউট হাসপাতালে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। যে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সেটি ছিল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া। আর যাঁর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন একজন ব্রেইন-ডেড রোগী।

মানবদেহে পশু-পাখির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনকে বলা হয় জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউটের সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাস্টিন চ্যান ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, “আমরা কয়েকজন ব্রেইন-ডেড রোগীর দেহে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত (জিএম) শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছিলাম। তাদের মধ্যে একজনের দেহে এই ফুসফুস ১০ দিন কার্যকর ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এই অপারেশনের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি যে এসব ফুসফুস স্বাধীনভাবে মানবদেহে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে না। আমাদের অপারেশন হয়তো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেনি, তবে এটি একটি দারুণ এবং আশাব্যঞ্জক প্রচেষ্টা ছিল।”

ডা. চ্যানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন, ফুসফুস প্রতিস্থাপন ও শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ফিশার। তিনি দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে হৃদ্‌পিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত ও কিডনির অকার্যকারিতা সমস্যায় ভোগা রোগীদের মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান এবং বেঁচে থাকতে পারেন। এর প্রধান কারণ হলো, এসব অঙ্গ অত্যন্ত দুর্লভ।”

তিনি আরও বলেন, “জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন এসব রোগীর জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর অগ্রগতি হয়েছে। এনওয়াইইউ হাসপাতালে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপনের এই অপারেশন নিঃসন্দেহে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের ক্ষেত্রে একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এটি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে যে আমরা সঠিক পথে আছি এবং এ বিষয়ে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান আরও বাড়াতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবদেহে পশু-পাখির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ব্রেইন-ডেড রোগীদের পাশাপাশি অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ ও মরণাপন্ন রোগীদেরও বেছে নেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে।

তবে এসব প্রতিস্থাপনের কোনোটি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পায়নি। প্রতিস্থাপনের পর কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে অ্যান্ড্রু ফিশার বলেন, “একজন ফুসফুস বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি বলতে পারি, ফুসফুস একদিকে যেমন অক্সিজেন সরবরাহ করে, তেমনি মানবদেহে রোগজীবাণুর প্রবেশের পথও তৈরি করে। আবার প্রবেশ করা জীবাণুকে প্রতিহত করার প্রাথমিক কাজটিও ফুসফুস করে থাকে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ।”

“ফলে অন্য কোনো প্রাণীর ফুসফুস মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা হলে অনেক সময় মানবদেহ নতুন ফুসফুসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। এটিই জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান