হুমকিতে মাঠ ও শহীদ মিনার
নদীভাঙনের কবলে শতবর্ষী বিদ্যালয়
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 86
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভুঞা ইউনিয়নের শতবর্ষী করিম উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয় নদীভাঙনের কারণে ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ পানির তোড়ে ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠ ও পাশের শহীদ মিনারও হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় পুরো ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
১৯৫১ সালে স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উল্যাহ চৌধুরী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টি ও ভাঙা মুছাপুর ক্লোজারের কারণে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভবনের নিচের মাটি ধসে গেছে এবং ভবনের উত্তর পাশের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। শহীদ মিনারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল পড়েছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেরিনা সুলতানা বলেন, “আমাদের গ্রুপ বিষয়গুলোর পাঠদান চলতে থাকে এই ভবনে। কখন পুরো ভবন নদীতে তলিয়ে যাবে তা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয় রক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সমাজসেবক জহিরুল কাইয়ুম রাহাত বলেন, নদীভাঙনের কারণে ভবন ধসে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানকে বিলীন হতে দেওয়া যাবে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ভবন বিলীন হলে তাদের শিক্ষাজীবনে বড় বিঘ্ন ঘটবে। প্রশাসনের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম বাছির ভূঞা বলেন, “নদীভাঙনে ভবনটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এতে লাইব্রেরি, নামাজের কক্ষ ও দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ভবন ধসে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হবে।”

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাঈন উদ্দিন আজাদ বলেন, “ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। নদীর তীরে টেকসই ভাঙনরোধী কাজ করা প্রয়োজন। পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, শিগগির কাজ শুরু হলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, “ভাঙন থেকে বিদ্যালয় রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে কাজ করছে।”































