ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৭ ফুট মৃত ইরাবতী ডলফিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 141

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৭ ফুট মৃত ইরাবতী ডলফিন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। এর শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া উঠে গেছে এবং পচন ধরেছে। ডলফিনটি দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ঘুরতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে স্বপ্নরাজ্য পার্কসংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী ইউসুফ। পরে তিনি উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সদস্যদের খবর দেন।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আগের তুলনায় এখন ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত এ ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থাগুলো এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক।”
তিনি আরও বলেন, “ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেমকে সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয় এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকায়ও ভূমিকা রাখে।”

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ-এর গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি মূলত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। রক্তাক্ত দাগ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র ও জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ। নদী ও মোহনার দূষিত পানি—যেমন শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেলও—ডলফিনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, “ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কুয়াকাটার জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব।”

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “আমরা উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় কাজ করছি। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতে ৭টি ডলফিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যেন এই মৃত্যুর সঠিক কারণগুলো উদঘাটন করা হয়।”

বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীদের সহযোগিতায় ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৭ ফুট মৃত ইরাবতী ডলফিন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের এ ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির। এর শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া উঠে গেছে এবং পচন ধরেছে। ডলফিনটি দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ঘুরতে আসা পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে স্বপ্নরাজ্য পার্কসংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী ইউসুফ। পরে তিনি উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সদস্যদের খবর দেন।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আগের তুলনায় এখন ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত এ ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থাগুলো এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক।”
তিনি আরও বলেন, “ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেমকে সুস্থ রাখে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দেয় এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকায়ও ভূমিকা রাখে।”

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ-এর গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি মূলত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। রক্তাক্ত দাগ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযান, মাছ ধরার যন্ত্র ও জেলেদের কার্যক্রমই মৃত্যুর মূল কারণ। নদী ও মোহনার দূষিত পানি—যেমন শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেলও—ডলফিনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, “ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জাল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কুয়াকাটার জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব।”

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “আমরা উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় কাজ করছি। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতে ৭টি ডলফিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যেন এই মৃত্যুর সঠিক কারণগুলো উদঘাটন করা হয়।”

বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীদের সহযোগিতায় ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে।”