অবৈধ সম্পদে বিত্তশালী সওজ প্রকৌশলী সুভাষচন্দ্র
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / 557
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুভাষচন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর দুর্নীতির অর্থ দিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী ও চট্টগ্রামে সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
নারায়ণগঞ্জের সাইমন রাজু নামে এক ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সড়ক ভবন), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সুভাষচন্দ্র শীল ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগে ড্রাফ্টসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন, পেট্রোল পাম্প ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের ইজারা সংক্রান্ত কাজে ভিটি শ্রেণিভুক্ত ভূমিকে ‘নাল’ বা ‘ডোবা’ দেখিয়ে কম রাজস্ব আদায় করতেন এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন সুভাষচন্দ্র। যারা কমিশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, ‘আমরা বিভিন্ন কাজের জন্য আসা গ্রাহকদের তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেই। বিনিমনে কাজের টাকার একটা ভাগ পাই।’
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সুভাষচন্দ্র শীল অর্থের বিনিময়ে সরকারি অধিগ্রহণকৃত ভূমির কাগজপত্র ও নকশা সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে তুলে দিতেন, যার ফলে বহু সরকারি ভূমি বেহাত হয়ে গেছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী ও চট্টগ্রামে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং নামে-বেনামে কয়েক বিঘা জমিও ক্রয় করেছেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় ল্যান্ড রেকর্ড অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন ডিভিশনে যোগদান করেন। যোগদানের পরই ক্যান্টনমেন্ট থানার জোয়ার সাহারা মৌজায় (ডিইএসডব্লিউএসপি) প্রকল্পের সড়ক কাটিংয়ের ফাইল আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সড়ক ভবনের একাধিক কর্মকর্তাও বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া সরকারি বরাদ্দকৃত মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো হ-৩৮-৩২৭৬) ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সুভাষচন্দ্র শীলের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এছাড়া, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তিনি প্রায়শই বিদেশ ভ্রমণ এবং ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষ নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীতে তার ব্যক্তিগত আর্কিটেকচার ডিজাইন অফিসও রয়েছে, যা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী।
নারায়ণগঞ্জ বিভাগের বিভিন্ন সিএনজি পাম্প ও প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানান, ‘বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতা অপব্যবহার করে সুভাষচন্দ্র হঠাৎ করেই বিত্তবান হয়ে ওঠেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা সড়ক ভবনের এক প্রকৌশলী বলেন, ‘আমরা তার কাছে জিম্মি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুভাষচন্দ্র শীল বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।’
সড়ক ভবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন ও সংস্থাপন) বলেন, ‘এখনো অভিযোগপত্র পাননি তিনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





































