ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমানের রেকর্ড মুনাফা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 231

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটি অনিরীক্ষিত হিসাবে ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের সব বছরের তুলনায় অভূতপূর্ব।

এর আগে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্য এসেছে দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কার্যকর কৌশল গ্রহণ এবং যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলস্বরূপ।

তারা যাত্রী ও গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে, যাদের আস্থা ও সমর্থন এই রেকর্ড মুনাফা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

১৯৭২ সালে মাত্র ১.৯০ কোটি টাকা আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমিত অবকাঠামো সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমানের আয় দাঁড়িয়েছে ১১,৬৩১.৩৭ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিমান প্রথমবারের মতো ১০,০০০ কোটির বেশি আয় করে।

বিমান তার দীর্ঘ যাত্রায় মোট ২৬টি বছরে লাভ করেছে। ২০০৭ সালে করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পর গত ১৮ বছরে বিমানের মোট পুঞ্জীভূত মুনাফা হয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকা।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৯টি নিজস্ব মালিকানাধীন। এগুলোর মধ্যে আছে চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।

শুধু উড়োজাহাজ নয়, বিমান এখন নিজস্ব সক্ষমতায় বহরের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে- লাইন মেইনটেন্যান্স থেকে শুরু করে বড় ধরনের চেক পর্যন্ত।

এতে ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান ৩.৪ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে। একই সময়ে কার্গো পরিবহন হয়েছে ৪৩,৯১৮ টন। কেবিন ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশ- এ, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এছাড়াও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।

দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে।

পাশাপাশি, বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে মেনে চলায় ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় সেফটি রেকর্ড বজায় রেখেছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিমানের রেকর্ড মুনাফা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটি অনিরীক্ষিত হিসাবে ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের সব বছরের তুলনায় অভূতপূর্ব।

এর আগে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্য এসেছে দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কার্যকর কৌশল গ্রহণ এবং যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলস্বরূপ।

তারা যাত্রী ও গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে, যাদের আস্থা ও সমর্থন এই রেকর্ড মুনাফা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

১৯৭২ সালে মাত্র ১.৯০ কোটি টাকা আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমিত অবকাঠামো সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমানের আয় দাঁড়িয়েছে ১১,৬৩১.৩৭ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিমান প্রথমবারের মতো ১০,০০০ কোটির বেশি আয় করে।

বিমান তার দীর্ঘ যাত্রায় মোট ২৬টি বছরে লাভ করেছে। ২০০৭ সালে করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের পর গত ১৮ বছরে বিমানের মোট পুঞ্জীভূত মুনাফা হয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকা।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৯টি নিজস্ব মালিকানাধীন। এগুলোর মধ্যে আছে চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।

শুধু উড়োজাহাজ নয়, বিমান এখন নিজস্ব সক্ষমতায় বহরের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে- লাইন মেইনটেন্যান্স থেকে শুরু করে বড় ধরনের চেক পর্যন্ত।

এতে ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান ৩.৪ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে। একই সময়ে কার্গো পরিবহন হয়েছে ৪৩,৯১৮ টন। কেবিন ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশ- এ, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এছাড়াও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড অর্জিত হয়েছে।

দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে।

পাশাপাশি, বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে মেনে চলায় ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয় সেফটি রেকর্ড বজায় রেখেছে।