ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক, রক্তে লেখা সত্য

জামশেদ নাজিম
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 483

জামশেদ নাজিম

সেদিন ছেলেটি লুঙ্গি পরে এসেছিল; শরীর এতটাই খারাপ ছিল যে, প্যান্ট পরার মতো শক্তি ছিল না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তারা সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছিল। অথচ প্রশাসন আর আনুগত্যে অন্ধ কিছু সাংবাদিক প্রাণপণে তাকে থামাতে উঠেপড়ে লেগেছিল। এমনকি বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হলো; যেন অন্ধকার নামিয়ে তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা যায়।
সে থামেনি। অন্ধকার ভেদ করে, কণ্ঠ কাঁপলেও সাহস হারায়নি। সেদিন আমরা তাকে দেখেছি; ভালোবাসা আর আত্মত্যাগে ভর করে থাকা কিছু সাংবাদিকের বৃত্ত তাকে ঘিরে রেখেছে, সংবাদ সম্মেলন করে ধীরে ধীরে রিকশায় তাকে উঠিয়ে দিতে।

অনেকে বলেন, সেই ছেলেটিই একদিন হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কেউ কেউ তো তা প্রকাশ্যে উচ্চারণও করে ফেলেছেন। ছেলেটা আর কেউ নয়; এই দেশের এক ইতিহাস, নাহিদ ইসলাম

সময়ে-অসময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক ঘটনা মনে পড়ে। কখনো লেখা হয়নি। কখনো কখনো লিখতেই ইচ্ছে করে নাই। আসলে আমি তেমন কেউ নই, তবু বছরের পর বছর সাংবাদিকতার পথে হেঁটে অনেক দৃশ্য দেখেছি, অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছি।
আর সেখান থেকেই এক প্রশ্ন বুকের ভেতরে অশান্তি তোলে; যে ভুলের দায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বাকশালী শাসন’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, আজ কি আমরা আবার সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছি না? ধ্বংসের পথে হাঁটছে না, একটা রাজনৈতিক দল?

অবশ্য বর্তমান সময়ের কারও কাছে এ প্রশ্ন করার সাহস আমার নেই। উত্তর চাইও না। শুধু গোপন ব্যথার মতো বুকের ভেতরে জমিয়ে রাখি, আর ভাবি; এমন হবার কথা ছিল না।
বাংলাদেশের ইতিহাস জন্মলগ্ন থেকেই ক্ষতবিক্ষত। রাজনৈতিক বিরোধ আর প্রতিহিংসার আগুনে অনেক ইতিহাস থেকে অনেক কিছু বাদ গেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেরও আছে তেমনি কিছু অঘোষিত, অপ্রকাশিত ইতিহাস; যা কেবল প্রত্যক্ষদর্শীদের বুকের ভেতরেই বেঁচে থাকে।

সেই জুলাইয়ের দিনগুলোতে ঘরের ভেতরে ঘর তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার পতনের জন্য। সরকার থেকে অনেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, কেউ কেউ দূর থেকে আসিফ-নাহিদদের সহায়তা করেছিলেন।
অথচ আজ যখন তারা কারও মুখে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিলি শুনে, তখন ভেতরে ভেতরে তারা নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করতে শুরু করে।

আমার বিশ্বাস, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ করে নাহিদ যদি একবার মানসিক সাহস করে ফুল নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যেতেন, শ্রদ্ধা জানাতেন; তাহলে ইতিহাস ভিন্ন হতো।
তখন হয়তো আওয়ামী লীগের নাম কেউ মুখে নিত না। বিএনপিকেও তাদের রাজনীতি নতুন করে গড়ে নিতে হতো। হয়তো নতুন কোনো পথের সূচনা হতো, নতুন ইতিহাস লেখা হতো।

কিন্তু নাহিদরা যখন ষড়যন্ত্রকারীদের উসকানিতে আবার ভাঙাচোরা ৩২ নম্বর ভাঙার স্বপ্ন দেখলেন, তখনই তাদের পথ পেছনের দিকে ঘুরে গেল। আর যখন তারা উচ্চারণ করলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”, তখন থেকেই তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর অগণিত প্রশ্নচিহ্ন আঁকা হয়ে গেল।

আমি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দেখি; কত সম্ভাবনা অপচয় হয়, কত স্বপ্ন ভেঙে যায়, কত ইতিহাস জন্ম নেবার আগেই অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় নেই। তার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ বা অভিমানও নেই। আছে কেবল একটিই অপেক্ষা; তিনি ভবিষ্যতে কোন পথে হাঁটবেন, কোন ইতিহাস লিখবেন তা দেখার অপেক্ষা।

এই অপেক্ষার ইচ্ছে জাগে; ১৫ আগস্টের কালো দিনে নাহিদ ইসলামের একটি মন্তব্য দেখে। আজ সকাল থেকে ফেসবুকে এই ছবিটি ভাসছিল, তখন অপেক্ষা আরো বেড়ে গেলো।
শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক; এটা কোনো দলের দান নয়, বাংলার মাটির রক্তে লেখা সত্য। যে মানুষ জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন কারাগারে, পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দী থেকেও জাতিকে স্বাধীনতার পথে উদ্বুদ্ধ করেছেন, ছয় দফা দিয়ে বাঙালিকে জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় দিয়েছেন; তাকে কি অস্বীকার করা যায়?

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠ আজও বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। জাতিসংঘও সেই ভাষণকে বিশ্বের অমূল্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাহলে কী করে বলা যায়, তিনি জাতির পিতা নন?
হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুরও ভুল ছিল। তিনি মানুষ ছিলেন, ফেরেশতা নন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের দেশে তিন বছরের দশ মাসের মধ্যে সংবিধান রচনা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়া; এসব তার অনন্য অর্জন। ভুলত্রুটি দিয়ে তার অবদান মুছে ফেলা যায় না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান

“মুজিব পূজা” বলে যারা বিদ্বেষ ঢাকতে চায়, তারা ভুলে যায়; বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করা পূজা নয়, এটা ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা। মুক্তিযুদ্ধ যদি সবার হয়, তবে তার নেতৃত্বও তো ইতিহাস স্বীকৃত করেছে; শেখ মুজিবুর রহমানকে।

শুধু তাই নয়, ১৫ আগস্ট; দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। অথচ আজও কিছু স্বার্থান্ধ গোষ্ঠী সেই হত্যার দিনটিকে বিকৃত করতে চাইছে, মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে চাইছে।

“বাকশাল মুক্ত দিবস” বলে যাদের ভাষা, তারা আসলে খুনিদের উত্তরসূরি, স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলতে চায়। তারা ভুলে যায়; বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালির মুক্তির স্বপ্ন।
যারা আজ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অভিযোগ তোলে, তারা কি জানে না; বাকশাল ছিল দুঃসময়ের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা, দেশের জন্য আত্মত্যাগী এক নেতার জরুরি পদক্ষেপ।

১৫ আগস্ট শোকের দিন, স্মরণের দিন, প্রেরণার দিন।
যারা এটিকে বিকৃত করে, তারা আসলে খুনিদের মানসিক দোসর।
আজ যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়, তারা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আড়াল করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস কারও করুণায় দাঁড়িয়ে থাকে না। ইতিহাস সত্যকে অমর করে রাখে, মিথ্যাকে ধ্বংস করে দেয়।

বঙ্গবন্ধু কেবল আওয়ামী লীগের নন, তিনি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার আত্মা। তাকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।

সাংবাদিক ও লেখক

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক, রক্তে লেখা সত্য

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

সেদিন ছেলেটি লুঙ্গি পরে এসেছিল; শরীর এতটাই খারাপ ছিল যে, প্যান্ট পরার মতো শক্তি ছিল না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তারা সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছিল। অথচ প্রশাসন আর আনুগত্যে অন্ধ কিছু সাংবাদিক প্রাণপণে তাকে থামাতে উঠেপড়ে লেগেছিল। এমনকি বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হলো; যেন অন্ধকার নামিয়ে তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা যায়।
সে থামেনি। অন্ধকার ভেদ করে, কণ্ঠ কাঁপলেও সাহস হারায়নি। সেদিন আমরা তাকে দেখেছি; ভালোবাসা আর আত্মত্যাগে ভর করে থাকা কিছু সাংবাদিকের বৃত্ত তাকে ঘিরে রেখেছে, সংবাদ সম্মেলন করে ধীরে ধীরে রিকশায় তাকে উঠিয়ে দিতে।

অনেকে বলেন, সেই ছেলেটিই একদিন হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কেউ কেউ তো তা প্রকাশ্যে উচ্চারণও করে ফেলেছেন। ছেলেটা আর কেউ নয়; এই দেশের এক ইতিহাস, নাহিদ ইসলাম

সময়ে-অসময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক ঘটনা মনে পড়ে। কখনো লেখা হয়নি। কখনো কখনো লিখতেই ইচ্ছে করে নাই। আসলে আমি তেমন কেউ নই, তবু বছরের পর বছর সাংবাদিকতার পথে হেঁটে অনেক দৃশ্য দেখেছি, অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছি।
আর সেখান থেকেই এক প্রশ্ন বুকের ভেতরে অশান্তি তোলে; যে ভুলের দায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বাকশালী শাসন’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, আজ কি আমরা আবার সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছি না? ধ্বংসের পথে হাঁটছে না, একটা রাজনৈতিক দল?

অবশ্য বর্তমান সময়ের কারও কাছে এ প্রশ্ন করার সাহস আমার নেই। উত্তর চাইও না। শুধু গোপন ব্যথার মতো বুকের ভেতরে জমিয়ে রাখি, আর ভাবি; এমন হবার কথা ছিল না।
বাংলাদেশের ইতিহাস জন্মলগ্ন থেকেই ক্ষতবিক্ষত। রাজনৈতিক বিরোধ আর প্রতিহিংসার আগুনে অনেক ইতিহাস থেকে অনেক কিছু বাদ গেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেরও আছে তেমনি কিছু অঘোষিত, অপ্রকাশিত ইতিহাস; যা কেবল প্রত্যক্ষদর্শীদের বুকের ভেতরেই বেঁচে থাকে।

সেই জুলাইয়ের দিনগুলোতে ঘরের ভেতরে ঘর তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার পতনের জন্য। সরকার থেকে অনেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, কেউ কেউ দূর থেকে আসিফ-নাহিদদের সহায়তা করেছিলেন।
অথচ আজ যখন তারা কারও মুখে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিলি শুনে, তখন ভেতরে ভেতরে তারা নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করতে শুরু করে।

আমার বিশ্বাস, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ করে নাহিদ যদি একবার মানসিক সাহস করে ফুল নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যেতেন, শ্রদ্ধা জানাতেন; তাহলে ইতিহাস ভিন্ন হতো।
তখন হয়তো আওয়ামী লীগের নাম কেউ মুখে নিত না। বিএনপিকেও তাদের রাজনীতি নতুন করে গড়ে নিতে হতো। হয়তো নতুন কোনো পথের সূচনা হতো, নতুন ইতিহাস লেখা হতো।

কিন্তু নাহিদরা যখন ষড়যন্ত্রকারীদের উসকানিতে আবার ভাঙাচোরা ৩২ নম্বর ভাঙার স্বপ্ন দেখলেন, তখনই তাদের পথ পেছনের দিকে ঘুরে গেল। আর যখন তারা উচ্চারণ করলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”, তখন থেকেই তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর অগণিত প্রশ্নচিহ্ন আঁকা হয়ে গেল।

আমি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দেখি; কত সম্ভাবনা অপচয় হয়, কত স্বপ্ন ভেঙে যায়, কত ইতিহাস জন্ম নেবার আগেই অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় নেই। তার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ বা অভিমানও নেই। আছে কেবল একটিই অপেক্ষা; তিনি ভবিষ্যতে কোন পথে হাঁটবেন, কোন ইতিহাস লিখবেন তা দেখার অপেক্ষা।

এই অপেক্ষার ইচ্ছে জাগে; ১৫ আগস্টের কালো দিনে নাহিদ ইসলামের একটি মন্তব্য দেখে। আজ সকাল থেকে ফেসবুকে এই ছবিটি ভাসছিল, তখন অপেক্ষা আরো বেড়ে গেলো।
শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক; এটা কোনো দলের দান নয়, বাংলার মাটির রক্তে লেখা সত্য। যে মানুষ জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন কারাগারে, পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বন্দী থেকেও জাতিকে স্বাধীনতার পথে উদ্বুদ্ধ করেছেন, ছয় দফা দিয়ে বাঙালিকে জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় দিয়েছেন; তাকে কি অস্বীকার করা যায়?

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠ আজও বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। জাতিসংঘও সেই ভাষণকে বিশ্বের অমূল্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাহলে কী করে বলা যায়, তিনি জাতির পিতা নন?
হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুরও ভুল ছিল। তিনি মানুষ ছিলেন, ফেরেশতা নন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের দেশে তিন বছরের দশ মাসের মধ্যে সংবিধান রচনা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়া; এসব তার অনন্য অর্জন। ভুলত্রুটি দিয়ে তার অবদান মুছে ফেলা যায় না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান

“মুজিব পূজা” বলে যারা বিদ্বেষ ঢাকতে চায়, তারা ভুলে যায়; বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করা পূজা নয়, এটা ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা। মুক্তিযুদ্ধ যদি সবার হয়, তবে তার নেতৃত্বও তো ইতিহাস স্বীকৃত করেছে; শেখ মুজিবুর রহমানকে।

শুধু তাই নয়, ১৫ আগস্ট; দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। অথচ আজও কিছু স্বার্থান্ধ গোষ্ঠী সেই হত্যার দিনটিকে বিকৃত করতে চাইছে, মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে চাইছে।

“বাকশাল মুক্ত দিবস” বলে যাদের ভাষা, তারা আসলে খুনিদের উত্তরসূরি, স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলতে চায়। তারা ভুলে যায়; বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালির মুক্তির স্বপ্ন।
যারা আজ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অভিযোগ তোলে, তারা কি জানে না; বাকশাল ছিল দুঃসময়ের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা, দেশের জন্য আত্মত্যাগী এক নেতার জরুরি পদক্ষেপ।

১৫ আগস্ট শোকের দিন, স্মরণের দিন, প্রেরণার দিন।
যারা এটিকে বিকৃত করে, তারা আসলে খুনিদের মানসিক দোসর।
আজ যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়, তারা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আড়াল করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস কারও করুণায় দাঁড়িয়ে থাকে না। ইতিহাস সত্যকে অমর করে রাখে, মিথ্যাকে ধ্বংস করে দেয়।

বঙ্গবন্ধু কেবল আওয়ামী লীগের নন, তিনি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার আত্মা। তাকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।

সাংবাদিক ও লেখক