ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 104

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকেও ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর সমঝোতা হয়নি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কার আঙ্কোরেজের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রাম্প বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলেছেন। তবে স্বীকার করেছেন, ‘কয়েকটি বড় বিষয়ে আমরা এখনও একমত হতে পারিনি, তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।’ অন্যদিকে পুতিন একে ‘শান্তির সূচনা বিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ দূর করতে হবে।

তবে কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, সেটি প্রকাশ করেননি দুই নেতা। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নও নেননি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের প্রথম বৈঠক। ফলে পুতিনের জন্য কূটনৈতিকভাবে এটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলবেন। তবে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

জেলেনস্কি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাশিয়ার হাতে তিনি কোনো ভূখণ্ড ছাড়বেন না। বৈঠকের দিনও ইউক্রেনে রুশ হামলায় নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে।

এ বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না আসায় ইউক্রেনের শান্তি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে অগ্রগতি হওয়ায় তিনি আপাতত চীনের ওপর রাশিয়ার তেল কেনার কারণে নতুন শুল্ক বসাবেন না। তবে ভারতকে নিয়ে কিছু বলেননি; দেশটি রাশিয়ার বড় ক্রেতা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ কেবল রাশিয়া থেকে কেনা তেলের জন্য।

ট্রাম্প আরও জানান, পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে পুতিন সাংবাদিকদের বলেননি যে জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা আছে। বরং তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের উচিত মার্কিন-রাশিয়া আলোচনার ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা।

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর না করলে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি সম্ভব নয়। অর্থাৎ তিনি এখনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য জমি বিনিময় ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অনেকটা একমত হয়েছি। আমি মনে করি, আমরা একটা চুক্তির কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনকেও এতে রাজি হতে হবে।” সাংবাদিক শন হ্যানিটিকে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো—“চুক্তি করতে হবে।”

তবে জেলেনস্কি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই রাশিয়াকে জমি দিয়ে যুদ্ধ শেষ করবেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চান।

যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেন ও রাশিয়ার একাধিক অঞ্চলে ড্রোন হামলা হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন জানায়, রাশিয়া ৮৫টি ড্রোন হামলা চালায়, যার মধ্যে তারা ৬১টি গুলি করে নামিয়েছে।

বৈঠকের শুরুটা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। আলাস্কার বিমান ঘাঁটিতে লাল গালিচায় ট্রাম্প নিজে পুতিনকে স্বাগত জানান। যদিও বৈঠকটি শেষ হয় কোনো বড় ঘোষণা ছাড়াই।

পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, ইউক্রেন থেকে শিশুদের জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে। তবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই ওই আদালতের সদস্য নয়।

জেলেনস্কি আশঙ্কা করেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধকে স্থবির করে দিয়ে কার্যত রাশিয়ার দখলকৃত এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডকে স্বীকৃতি দেবেন। তবে ট্রাম্প জানান, যে কোনো সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের ওপরই নির্ভর করবে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প পুতিনকে বলেন, “খুব শিগগিরই আবার আপনার সঙ্গে কথা হবে, হয়তো দেখা-ও হবে।” উত্তরে হাসিমুখে পুতিন বলেন, “পরের বার মস্কোতে।”

জেলেনস্কি বৈঠকের আগে বলেছিলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে “ন্যায্য শান্তির” পথ খুলে দেওয়া উচিত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে রাশিয়াকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। “আমরা আমেরিকার ওপর নির্ভর করছি,”—টেলিগ্রামে লেখেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকেও ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর সমঝোতা হয়নি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কার আঙ্কোরেজের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রাম্প বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলেছেন। তবে স্বীকার করেছেন, ‘কয়েকটি বড় বিষয়ে আমরা এখনও একমত হতে পারিনি, তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।’ অন্যদিকে পুতিন একে ‘শান্তির সূচনা বিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ দূর করতে হবে।

তবে কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, সেটি প্রকাশ করেননি দুই নেতা। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নও নেননি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের প্রথম বৈঠক। ফলে পুতিনের জন্য কূটনৈতিকভাবে এটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলবেন। তবে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

জেলেনস্কি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাশিয়ার হাতে তিনি কোনো ভূখণ্ড ছাড়বেন না। বৈঠকের দিনও ইউক্রেনে রুশ হামলায় নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে।

এ বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না আসায় ইউক্রেনের শান্তি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে অগ্রগতি হওয়ায় তিনি আপাতত চীনের ওপর রাশিয়ার তেল কেনার কারণে নতুন শুল্ক বসাবেন না। তবে ভারতকে নিয়ে কিছু বলেননি; দেশটি রাশিয়ার বড় ক্রেতা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ কেবল রাশিয়া থেকে কেনা তেলের জন্য।

ট্রাম্প আরও জানান, পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে পুতিন সাংবাদিকদের বলেননি যে জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা আছে। বরং তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের উচিত মার্কিন-রাশিয়া আলোচনার ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা।

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর না করলে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি সম্ভব নয়। অর্থাৎ তিনি এখনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য জমি বিনিময় ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অনেকটা একমত হয়েছি। আমি মনে করি, আমরা একটা চুক্তির কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনকেও এতে রাজি হতে হবে।” সাংবাদিক শন হ্যানিটিকে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো—“চুক্তি করতে হবে।”

তবে জেলেনস্কি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই রাশিয়াকে জমি দিয়ে যুদ্ধ শেষ করবেন না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চান।

যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেন ও রাশিয়ার একাধিক অঞ্চলে ড্রোন হামলা হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন জানায়, রাশিয়া ৮৫টি ড্রোন হামলা চালায়, যার মধ্যে তারা ৬১টি গুলি করে নামিয়েছে।

বৈঠকের শুরুটা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। আলাস্কার বিমান ঘাঁটিতে লাল গালিচায় ট্রাম্প নিজে পুতিনকে স্বাগত জানান। যদিও বৈঠকটি শেষ হয় কোনো বড় ঘোষণা ছাড়াই।

পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, ইউক্রেন থেকে শিশুদের জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে। তবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই ওই আদালতের সদস্য নয়।

জেলেনস্কি আশঙ্কা করেছিলেন, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধকে স্থবির করে দিয়ে কার্যত রাশিয়ার দখলকৃত এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডকে স্বীকৃতি দেবেন। তবে ট্রাম্প জানান, যে কোনো সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের ওপরই নির্ভর করবে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প পুতিনকে বলেন, “খুব শিগগিরই আবার আপনার সঙ্গে কথা হবে, হয়তো দেখা-ও হবে।” উত্তরে হাসিমুখে পুতিন বলেন, “পরের বার মস্কোতে।”

জেলেনস্কি বৈঠকের আগে বলেছিলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে “ন্যায্য শান্তির” পথ খুলে দেওয়া উচিত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে রাশিয়াকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। “আমরা আমেরিকার ওপর নির্ভর করছি,”—টেলিগ্রামে লেখেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স