মিয়া গোলাম পরওয়ার
৬৫ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই একাত্তরে ভারত সহযোগিতা করেছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 65
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ভারত একাত্তরে সহযোগিতা করেছিল। তার দাবি, সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশকে প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল, যার অবসান ঘটে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিজয় দিবসের যুব ম্যারাথন শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল বলেই প্রতিবেশী দেশটি দিনটিকে নিজেদের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। তার মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দমন–নির্যাতনের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করলেও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী মনোভাব ও অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের কারণে স্বাধীনতার সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যায়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী আত্মসমর্পণের সময় কেন উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়ে আজও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক পরওয়ার ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত স্বাধীনতা হলো গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা।
ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের দিনে এ হামলা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, নির্বাচনকে ব্যাহত করতেই এ ধরনের সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীসহ সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি ও দলের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সঞ্চালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।































