৫ কোটি টাকার চেক ও জমির দলিলও নিয়েছিলেন রিয়াদ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / 287
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কালাম আজাদের কাছ থেকে রিয়াদ ৫ কোটি টাকার চেক ও একটি জমির দলিল আদায় করেছেন।
জানা গেছে, ২৬ জুন রিয়াদ ও তার সহযোগীদের একটি দল গ্রিন রোডে সাবেক এমপির অফিসে গিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। তারা হুমকি দেয়, দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে বাইরে অপেক্ষমাণ প্রায় ২০০ জনের একটি দল এসে অফিস ভাঙচুর করবে। এমনকি এমপির গলায় জুতার মালা পরানোর ভয়ও দেখানো হয়। পরে তারা চেক ও জমির দলিল নিয়ে চলে যায়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রিয়াদের ভাড়া বাসা থেকে পরে চারটি চেক উদ্ধার করে, যার পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা। ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উদ্ধারকৃত চেকগুলোর সবই সাবেক এমপির কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। বাকি আড়াই কোটি টাকার চেক রিয়াদের অন্যান্য সহযোগীদের কাছে রয়েছে, যাদের পরিচয় পুলিশের কাছে রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার হওয়া চেকগুলো ‘নিট জোন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা হয়। চেকগুলোর কোনো নির্দিষ্ট প্রাপক ছিল না, শুধু টাকার অঙ্ক এবং স্বাক্ষর ছিল।

এর আগে ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে রিয়াদসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয় এবং রিয়াদসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অন্যরা হলেন, ইব্রাহীম হোসেন মুন্না (ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক), সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাব।
এই ঘটনায় পুলিশ আরও একটি নতুন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চাঁদা দাবি ও আদায়ের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা আগেই বিষয়টি জানালে এমন ঘটনা হয়তো প্রতিহত করা যেত। তদন্তে দেখা হচ্ছে; তাদের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন কিনা, বা কোন কারণে তারা চাঁদা দিতে বাধ্য হন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় গৌণ, তদন্তে যারা জড়িত প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার দিন রিয়াদের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল এমপির অফিসে গিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং নানা হুমকি দিয়ে চেক ও দলিল আদায় করে।
গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রিয়াদ ও তার সহযোগীরা অন্য কোথায় কোথায় চাঁদা দাবি করেছে সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, রিয়াদ কিছুদিন আগে ঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তারের পর তাকে বহিষ্কার করা হয়।































