ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে

৫০০ বছরের ঐতিহ্য, কটিয়াদীতে বসেছে ঢাকের হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 71

৫০০ বছরের ঐতিহ্য, কটিয়াদীতে বসেছে ঢাকের হাট

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বসেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও পূজার আগের দুই দিন ধরে চলছে এ আয়োজন, যেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থী এবং পূজা আয়োজকেরা নিজেদের মণ্ডপের জন্য ঢাকির দল নিতে।

কটিয়াদী পৌরসভার পুরাতন বাজার এলাকায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া হাট চলবে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঢাকিরা ঢোল, কাঁসর, সানাই, বাঁশি, করতাল ও খঞ্জরির সুরে নাচ–গানে মেতে তুলেছেন পরিবেশ। দল বেছে নেওয়ার জন্য আয়োজকরা সরাসরি বাজনা শুনে চুক্তি করছেন। ঢাকির দলের মূল্য উঠছে প্রায় ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি।

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামন্তরাজা নবরঙ্গ রায় দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন তাঁর চারিপাড়া গ্রামের রাজপ্রাসাদে। সেরা ঢাকি খুঁজে বের করতে তিনি নৌপথে ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গার ঢাকিদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তখন নদের যাত্রাঘাটে জড়ো হতো অসংখ্য ঢাকিদল, যেখান থেকে রাজা নিজেই সেরা দল নির্বাচন করে পুরস্কৃত করতেন। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই ঢাকের হাটের সূচনা। পরবর্তীতে হাটটি স্থানান্তরিত হয়ে কটিয়াদীর পুরাতন বাজারে স্থায়ী রূপ নেয় এবং এখনো জেলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

আয়োজকরা জানান, এটি দেশের একমাত্র ঢাকের হাট, যার ঐতিহ্য প্রায় পাঁচ শতাব্দীজুড়ে। হাটকে ঘিরে চলছে আনন্দমুখর পরিবেশ, আর ঢাকিদের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে

৫০০ বছরের ঐতিহ্য, কটিয়াদীতে বসেছে ঢাকের হাট

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বসেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও পূজার আগের দুই দিন ধরে চলছে এ আয়োজন, যেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থী এবং পূজা আয়োজকেরা নিজেদের মণ্ডপের জন্য ঢাকির দল নিতে।

কটিয়াদী পৌরসভার পুরাতন বাজার এলাকায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া হাট চলবে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঢাকিরা ঢোল, কাঁসর, সানাই, বাঁশি, করতাল ও খঞ্জরির সুরে নাচ–গানে মেতে তুলেছেন পরিবেশ। দল বেছে নেওয়ার জন্য আয়োজকরা সরাসরি বাজনা শুনে চুক্তি করছেন। ঢাকির দলের মূল্য উঠছে প্রায় ৩০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি।

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামন্তরাজা নবরঙ্গ রায় দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন তাঁর চারিপাড়া গ্রামের রাজপ্রাসাদে। সেরা ঢাকি খুঁজে বের করতে তিনি নৌপথে ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গার ঢাকিদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তখন নদের যাত্রাঘাটে জড়ো হতো অসংখ্য ঢাকিদল, যেখান থেকে রাজা নিজেই সেরা দল নির্বাচন করে পুরস্কৃত করতেন। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই ঢাকের হাটের সূচনা। পরবর্তীতে হাটটি স্থানান্তরিত হয়ে কটিয়াদীর পুরাতন বাজারে স্থায়ী রূপ নেয় এবং এখনো জেলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।

আয়োজকরা জানান, এটি দেশের একমাত্র ঢাকের হাট, যার ঐতিহ্য প্রায় পাঁচ শতাব্দীজুড়ে। হাটকে ঘিরে চলছে আনন্দমুখর পরিবেশ, আর ঢাকিদের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ।