উদ্ধার অভিযান চলছেই
৪৫ ফুট গভীরেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 69
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ৪৫ ফুট গভীরে খুঁড়েও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, গর্তটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর, এবং বিশ্বের কোনো প্রযুক্তিই এত গভীর গর্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার করতে পারে না। বিভিন্ন উন্নত দেশে এত গভীরে পৌঁছাতে ৭৫–৭৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
তিনি বলেন, “প্রথম পর্যায়ে ৩৫ ফুট পর্যন্ত গর্তে ক্যামেরা পাঠানো হলেও কিছু দেখা যায়নি। এখন ৪৫ ফুট পর্যন্ত নামানো সম্ভব হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করছি এবং পদ্ধতিগত কোনো ভুল নেই। শিশুটিকে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”
রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মনজিল হক জানিয়েছেন, গর্তের ৮–১০ ফুট দূরে একটি পুকুর থাকায় সাবধানে খনন করা হচ্ছে, যাতে পানি লিকেজ না ঘটে। এছাড়া উদ্ধারকাজে তিনটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট অংশ নিচ্ছে এবং গর্তের ভেতরে শিশুটিকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এক্সকাভেটর সমান্তরাল আরেকটি পথ খুঁড়ে মাটি সরাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে মাটি ভর্তি একটি ট্রলি হঠাৎ গর্তের ওপর পড়ে। শিশুটি তখন ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে এবং পরে গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল, তাই কেউ আগে লক্ষ্য করতে পারেনি।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান বলেন, “স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কোয়েলহাট গ্রামের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক কমে গেছে। গর্তটি পানির স্তর পরীক্ষা করতে তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে ভরাট করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে মাটি বসে গিয়ে এটি আবার বের হয়ে এসেছে।”
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না তাকে সুস্থ ও অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।




































