ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নির্বাচনে নজরদারি

৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

আগামী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে এসব ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও সহিংসতা রোধ করা যায়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার বডি ক্যামেরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সময় ব্যবহৃত বিশেষ অ্যাপও এবার চালু রাখা হবে, যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা যায়।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য প্রায় ১৬ হাজার বিএনসিসি ক্যাডেট দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিবেশ শৃঙ্খলিত রাখতে এ ক্যাডেটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে আশা করছে কমিশন।

নির্বাচনী অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে সরাসরি কমিশনে না এসে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটিতে জানাতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সবাইকে আবারও আহ্বান জানান ইসি সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে এ ধরনের কমিটি রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা এসব কমিটি ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে জানালে কমিশন সেগুলো নিয়মিতভাবে অনুসরণ করবে।

আখতার আহমেদ স্বীকার করেন, কমিশন এ বিষয়ে নির্ভার নয়। বরং আচরণবিধি বাস্তবায়নে সক্রিয় নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী নজরে আসায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কূটনীতিকদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়েও তিনি তথ্য দেন। জানান, রোববার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কূটনীতিকদের একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানসহ মোট ৪১ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কূটনীতিকরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কমান্ড স্ট্রাকচার এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশে সময় লাগবে কি না, সে বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সামগ্রিকভাবে বডি ক্যামেরা ব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ক্যাডেট মোতায়েন এবং কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আসন্ন ভোটকে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে একটি বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাঠপর্যায়ে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নির্বাচনে নজরদারি

৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে এসব ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও সহিংসতা রোধ করা যায়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার বডি ক্যামেরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সময় ব্যবহৃত বিশেষ অ্যাপও এবার চালু রাখা হবে, যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা যায়।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য প্রায় ১৬ হাজার বিএনসিসি ক্যাডেট দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিবেশ শৃঙ্খলিত রাখতে এ ক্যাডেটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে আশা করছে কমিশন।

নির্বাচনী অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে সরাসরি কমিশনে না এসে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটিতে জানাতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সবাইকে আবারও আহ্বান জানান ইসি সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে এ ধরনের কমিটি রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা এসব কমিটি ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে জানালে কমিশন সেগুলো নিয়মিতভাবে অনুসরণ করবে।

আখতার আহমেদ স্বীকার করেন, কমিশন এ বিষয়ে নির্ভার নয়। বরং আচরণবিধি বাস্তবায়নে সক্রিয় নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী নজরে আসায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কূটনীতিকদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়েও তিনি তথ্য দেন। জানান, রোববার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কূটনীতিকদের একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানসহ মোট ৪১ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কূটনীতিকরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কমান্ড স্ট্রাকচার এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশে সময় লাগবে কি না, সে বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সামগ্রিকভাবে বডি ক্যামেরা ব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ক্যাডেট মোতায়েন এবং কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আসন্ন ভোটকে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে একটি বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাঠপর্যায়ে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা অনেকাংশে নির্ভর করবে।