৩০০ কোটি প্রতারণা করে লাপাত্তা ফ্লাইট এক্সপার্টের মালিকপক্ষ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 207
দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন টিকিট ও হোটেল বুকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট হঠাৎ করেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ সচল থাকলেও কার্যত কোনো সেবা চালু নেই। এরই মধ্যে ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সাইম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট-এরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ‘মক্কা গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান এবং সাইমের বাবা।
ফ্লাইট এক্সপার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে গতকাল বিকেল থেকে মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির অফিসের সামনে বিভিন্ন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল কোম্পানির শতাধিক গ্রাহক জড়ো হন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সিইওর দেশত্যাগের ঘটনায় ফ্লাইট এক্সপার্টের কর্মীরা মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার সেবা না দিয়ে অথবা সেই টাকা আত্মসাৎ করে সালমান সপরিবারে বিদেশে (কানাডায়) পালিয়ে গেছেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি জানান।
এক সময় ডিজিটাল ভ্রমণ খাতের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত ফ্লাইট এক্সপার্ট টিকিট বুকিং, হোটেল রিজার্ভেশন ও ট্যুর প্যাকেজের মাধ্যমে ভালো সুনাম অর্জন করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাদের সেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অগ্রিম বুকিং বাতিল করলেও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না।
প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিইও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেবা না দিয়ে গ্রাহকদের অগ্রিম অর্থ আত্মসাৎ করছিলেন, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে। একপর্যায়ে কর্মীদের বিপদে ফেলে সিইও ও চেয়ারম্যান পালিয়ে যান।
মতিঝিলে অফিসের সামনে উপস্থিত কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে ‘অবকাশ অপারেশন্স’-এর ব্যবস্থাপক বদরুল হক জানান, তারা ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে অন্তত ৫০ লাখ টাকার টিকিট বুকিং করেছেন, কিন্তু কোনো সেবা না পাওয়ার পর জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ!
প্যান প্যাসিফিক ট্রাভেলস-এর কর্মী ফাইয়াজ মাহমুদ জানান, তারা প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৬ লাখ টাকার টিকিট বুকিং দিয়েছিলেন।
এদিকে, গতকাল কর্মী সাঈদ আহমেদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এস এম সাদাত হোসেন, চিফ মার্কেটিং অফিসার আব্দুল গনি মেহেদী, হেড অব ফিন্যান্স মো. সাকিব হোসাইন, ও হেড অব ভিসা জুবায়ের হাসান মতিঝিল থানায় সিইও ও এমডি সালমান বিন রশিদ শাহ সাইমের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন।
জিডিতে বলা হয়, সালমান গত শুক্রবার রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে বিদেশে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তার মাধ্যমে জানান।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সাপ্লায়ার ও গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এর ফলে কর্মীরা বিভিন্ন হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন।
আরো পড়তে পারেন
































