ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৬ খণ্ডে খুন হওয়া আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 84

২৬ খণ্ডে খুন হওয়া আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বাল্যবন্ধুর হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হওয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর নয়াপাড়া আল মাহফুজ মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন, পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

শুক্রবার গভীর রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ভোর থেকেই দূরদূরান্তের মানুষ জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন। দাফনের সময় আশরাফুলের মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে সকলেই বিচলিত হন। স্বজনেরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কথা শোনার পর থেকেই পরিবারটি ভেঙে পড়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বাল্যবন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজ আশরাফুলকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন আনজিনা বেগম ঢাকার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় জরেজুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে জরেজুল ও শামীমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বজনদের ভাষ্যে, জরেজুল বিদেশ যাওয়ার জন্য আশরাফুলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চাইতেন। আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “জরেজকে নিজের ভাইয়ের মতোই বিশ্বাস করত। প্রয়োজনে টাকা দিতে রাজি ছিলাম। তারপরও কেন ও আমার স্বামীকে এমনভাবে হত্যা করল? আমার স্বামীকে যারা টুকরো করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই।”

আশরাফুলের বাবা আবদুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “জরেজ তাগাদা দিয়ে ছেলেটাকে ঢাকা নিয়ে গেছে। যদি জানতাম এমন সর্বনাশ করবে, ছেলেকে কোনো অবস্থাতেই যেতাম না দিতে। এখন ছোট নাতি-নাতনিকে দেখবে কে?”

মা এছরা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর বারবার একটাই প্রশ্ন—“আমার বেটা কার ক্ষতি করছিল? কেন এমনভাবে তাকে কাটল?”

স্থানীয় সূত্র জানায়, আশরাফুল মা–বাবার একমাত্র ছেলে। চার বোনের ভাই তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশের বড় আড়তগুলোতে সরবরাহ করতেন। সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি পরিচিত ছিলেন—ঈদের সময় গরিবদের পোশাক ও খাবার বিতরণ করতেন নিয়মিত।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, “আশরাফুল খুব ভদ্র ও নম্র মানুষ ছিলেন। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শাহবাগ থানার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গত ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর বন্ধু জরেজুলের সঙ্গে ঢাকায় যান আশরাফুল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে একটি ড্রাম থেকে তার বিচ্ছিন্ন অঙ্গ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২৬ খণ্ডে খুন হওয়া আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বাল্যবন্ধুর হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হওয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর নয়াপাড়া আল মাহফুজ মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন, পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

শুক্রবার গভীর রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ভোর থেকেই দূরদূরান্তের মানুষ জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন। দাফনের সময় আশরাফুলের মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে সকলেই বিচলিত হন। স্বজনেরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কথা শোনার পর থেকেই পরিবারটি ভেঙে পড়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বাল্যবন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজ আশরাফুলকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন আনজিনা বেগম ঢাকার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় জরেজুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে জরেজুল ও শামীমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বজনদের ভাষ্যে, জরেজুল বিদেশ যাওয়ার জন্য আশরাফুলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চাইতেন। আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “জরেজকে নিজের ভাইয়ের মতোই বিশ্বাস করত। প্রয়োজনে টাকা দিতে রাজি ছিলাম। তারপরও কেন ও আমার স্বামীকে এমনভাবে হত্যা করল? আমার স্বামীকে যারা টুকরো করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই।”

আশরাফুলের বাবা আবদুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “জরেজ তাগাদা দিয়ে ছেলেটাকে ঢাকা নিয়ে গেছে। যদি জানতাম এমন সর্বনাশ করবে, ছেলেকে কোনো অবস্থাতেই যেতাম না দিতে। এখন ছোট নাতি-নাতনিকে দেখবে কে?”

মা এছরা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর বারবার একটাই প্রশ্ন—“আমার বেটা কার ক্ষতি করছিল? কেন এমনভাবে তাকে কাটল?”

স্থানীয় সূত্র জানায়, আশরাফুল মা–বাবার একমাত্র ছেলে। চার বোনের ভাই তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশের বড় আড়তগুলোতে সরবরাহ করতেন। সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি পরিচিত ছিলেন—ঈদের সময় গরিবদের পোশাক ও খাবার বিতরণ করতেন নিয়মিত।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, “আশরাফুল খুব ভদ্র ও নম্র মানুষ ছিলেন। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শাহবাগ থানার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গত ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর বন্ধু জরেজুলের সঙ্গে ঢাকায় যান আশরাফুল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে একটি ড্রাম থেকে তার বিচ্ছিন্ন অঙ্গ উদ্ধার করে পুলিশ।