২৪ ঘণ্টার মধ্যে
আইজিপিকে অপসারণে আইনি নোটিশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 111
তবে কি এবার কপাল পুড়তে যাচ্ছে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের ? এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনার তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তার নাম উঠে আসায়।
আইজিপি বাহারুল আলমকে অপসারণ করার জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইজিপিকে অপসারণ করতে হবে।
নোটিশ পাঠানো তিনজন আইনজীবী হলেন মো. আব্দুস সামাদ, মো. শাহিন হোসেন এবং মো. আতিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার এই নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের তিনজন আইনজীবী প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা না হয়, তাহলে আইনের সাহায্য নেওয়া হবে।
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পাশাপাশি বিশেষ শাখায় (এসবি) দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সংবেদনশীল এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং আরও ১৭ জনসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আদালত ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেন। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ ও প্রশ্ন ছিল।
দেড় যুগ পর গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার সাত সদস্যের জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। ৩০ নভেম্বর কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।
প্রতিবেদনের ১৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়—তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার নাইম আহমেদ, তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) বাহারুল আলম, পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দসহ তার তদন্ত দল।





































