২৩ বাঁশমহালে লুটের মহোৎসব
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 82
মৌলভীবাজারের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ২৩টি বাঁশমহাল এখন পুরোপুরি ইজারাবিহীন হয়ে পড়ায় সেখানে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে বনের মূল্যবান বাঁশ ও বেত। চুরির পর এই বাঁশগুলো ছড়ার পানিতে ভাসিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হচ্ছে।
একসময় এসব বাঁশমহাল থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হতো কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে দরপত্র আহ্বান করেও বন বিভাগ কোনো ইজারাদার পাচ্ছে না। ফলে রাজস্ব শূন্য হওয়ার পাশাপাশি বনভূমি এখন চোরাকারবারিদের দখলে চলে গেছে।
জেলা বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের চারটি রেঞ্জে মোট ২৩টি বাঁশমহাল রয়েছে। এর মধ্যে রাজকান্দি ও জুড়ী রেঞ্জে সাতটি করে, বড়লেখায় চারটি এবং কুলাউড়া রেঞ্জে পাঁচটি। এসব মহালের আওতায় প্রায় ৪০ হাজার ৫৫ একর বনভূমি আছে।
সিলেট বন বিভাগ গত ২০ এপ্রিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল, তবে কোনো নিবন্ধিত মহালদার অংশ নেননি। ফলে সরকারিভাবে মহাল শূন্য থাকলেও বাস্তবে সেখানে অবাধ লুট চলছে। রাজকান্দি রেঞ্জের লেওয়াছড়া, বাঘাছড়া, কুরমাছড়া, সোনারাইছড়া ও ডালুয়াছড়া মহালে ঘুরে দেখা গেছে, সব মহালেই বাঁশ কাটা হয়েছে।
রাজকান্দি রেঞ্জের বাঁশমহালগুলো হলো লেওয়াছড়া, চম্পারায়, বাঘাছড়া, ডালুয়াছড়া, কুরমাছড়া, সোনারাইছড়া ও সুনছড়া। জুড়ী রেঞ্জে সুরমাছড়া, রাগনাছড়া, পুটিছড়া, পূর্ব গোয়ালী, ধলাইছড়া, সাগরনাল, হলম্পাছড়া। বড়লেখা রেঞ্জে লাটুছঠা, হাতমাছড়া, নিকুড়িছড়া, মাধবছড়া এবং কুলাউড়া রেঞ্জে পশ্চিম গোগালী, ছোট কালাইগিরি, বেগুনছড়া, লবণছড়া ও বড় কালাইগিরি বাঁশমহাল রয়েছে।
সাবেক ইজারাদাররা বলেন, সরকারি দরপত্র অনুযায়ী বাঁশের মূল্য তাদের বিক্রির দামের চেয়ে অনেক বেশি। এতে লাভের সুযোগ নেই, কিন্তু চোরাকারবারিরা অবাধে বাঁশ কেটে বিক্রি করছে। চুরির আলামত মুছে ফেলার জন্য অনেক সময় আগুনও লাগানো হয়, যা বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।
সাগরদীঘি পাড়ের বাঁশ বিক্রেতা সাদিক আলী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন বাঁশমহালের বাঁশ কিনতে পারছি না। এগুলো বড় ব্যবসায়ীরা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।”
সিলেট বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, “বাঁশমহালগুলোর ইজারা না হওয়ার পেছনে কিছু প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। প্রতিটি মহালের বাঁশের পরিমাণ ও পুনর্জন্ম ক্ষমতা নির্ণয়ের জন্য মাঠে টিম কাজ করছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর টেকসইভাবে যেসব মহাল ইজারা দেওয়া সম্ভব হবে, সেখানে দরপত্র আহ্বান করা হবে। অবৈধভাবে বাঁশ কাটা বা পাচারের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।”



































