ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২২ মাসে চার জেলায় নদী থেকে ৭৩ মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 172

নদীতে লাশ

খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় হত্যার পর নদী, খাল ও ডোবাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মরদেহ ফেলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বেড়েছে। পচে-গলে যাওয়ার কারণে মোট উদ্ধারকৃত লাশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—এই তিন ধরনের ঘটনা রয়েছে। তবে নৌপুলিশ জানায়, বেশিরভাগ লাশ স্থলভাগে হত্যা করে নদীতে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় ও খুলনা নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মাসে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরের বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল থেকে ৭৩টিরও বেশি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ২০২৪ সালে ৩৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নদী থেকে ৩৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, গত ১৭ অক্টোবর দাকোপের বাজুয়ার চুনকুড়ি নদী থেকে আশিষ সরকারের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে পাইকগাছা উপজেলার সোনাদানা ইউনিয়নের শিবসা নদীর চর থেকে ইকরাম হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। ১৬ অক্টোবর পাইকগাছার জিরবুনিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত (৪০) যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নৌপুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে নবজাতক ও পূর্ণবয়স্ক মানুষের লাশ রয়েছে। নবজাতক ছাড়া পূর্ণবয়স্ক লাশগুলো অর্ধগলিত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। মরদেহ নদীতে ফেলার মূল উদ্দেশ্য তথ্য ও প্রমাণ লুকানো। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও আশপাশের নদ-নদীতে প্রায় প্রতিদিনই লাশ ভেসে ওঠে। ৫ আগস্টের পর পুলিশের কার্যক্রম যথাযথ নয়, যা সন্ত্রাসীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হলে অপরাধীরা ভয় পাবে। এছাড়া আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে লাশ শনাক্ত করা গেলে অপরাধীদের খুঁজে বের করা সহজ হত।

খুলনা নৌপুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, নদীতে তিন ধরনের লাশ পাওয়া যায়—দুর্ঘটনাজনিত, আত্মহত্যাজনিত এবং হত্যাজনিত। হত্যাজনিতের মধ্যে নবজাতক ও বয়স্কদের লাশ রয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের লাশ উদ্ধার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। জনবল সীমিত হলেও পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২২ মাসে চার জেলায় নদী থেকে ৭৩ মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় হত্যার পর নদী, খাল ও ডোবাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মরদেহ ফেলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বেড়েছে। পচে-গলে যাওয়ার কারণে মোট উদ্ধারকৃত লাশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—এই তিন ধরনের ঘটনা রয়েছে। তবে নৌপুলিশ জানায়, বেশিরভাগ লাশ স্থলভাগে হত্যা করে নদীতে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় ও খুলনা নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মাসে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরের বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল থেকে ৭৩টিরও বেশি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ২০২৪ সালে ৩৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নদী থেকে ৩৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, গত ১৭ অক্টোবর দাকোপের বাজুয়ার চুনকুড়ি নদী থেকে আশিষ সরকারের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে পাইকগাছা উপজেলার সোনাদানা ইউনিয়নের শিবসা নদীর চর থেকে ইকরাম হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। ১৬ অক্টোবর পাইকগাছার জিরবুনিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত (৪০) যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নৌপুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে নবজাতক ও পূর্ণবয়স্ক মানুষের লাশ রয়েছে। নবজাতক ছাড়া পূর্ণবয়স্ক লাশগুলো অর্ধগলিত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। মরদেহ নদীতে ফেলার মূল উদ্দেশ্য তথ্য ও প্রমাণ লুকানো। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও আশপাশের নদ-নদীতে প্রায় প্রতিদিনই লাশ ভেসে ওঠে। ৫ আগস্টের পর পুলিশের কার্যক্রম যথাযথ নয়, যা সন্ত্রাসীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হলে অপরাধীরা ভয় পাবে। এছাড়া আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে লাশ শনাক্ত করা গেলে অপরাধীদের খুঁজে বের করা সহজ হত।

খুলনা নৌপুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, নদীতে তিন ধরনের লাশ পাওয়া যায়—দুর্ঘটনাজনিত, আত্মহত্যাজনিত এবং হত্যাজনিত। হত্যাজনিতের মধ্যে নবজাতক ও বয়স্কদের লাশ রয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের লাশ উদ্ধার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। জনবল সীমিত হলেও পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করছে।