২০ জনের মরদেহ হস্তান্তর, শনাক্ত হয়নি ৬ জন
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
- / 163
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও শনাক্ত হয়নি ৬ জনের মরদেহ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
তিনি জানান, গত ১২ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু। বাকি দুইজনের একজন বিমানবাহিনীর পাইলট, অপরজন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “মোট ২০ জনের মরদেহ অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনাক্ত না হওয়া ৬ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে একজনের দেহাবশেষ রাখা হয়েছে।”
আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪২ জন, সিএমএইচে ২৮ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন ৩ জন। তাদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে আছেন।”

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার কিছু পর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। সেই ভবনে ক্লাস চলাকালে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অবস্থান করছিলেন। আগুন, ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপে অনেকেই আটকা পড়ে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দ্রুতই সেনাবাহিনী ও বিজিবি যুক্ত হয়। হতাহতদের উদ্ধারে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহৃত হয়। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউট, সিএমএইচ ও ঢামেকে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সবধরনের চিকিৎসা প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বার্ন ইউনিটে দুইজন ভেন্টিলেশনে আছেন। চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা পাঁচজন রোগীর ব্যাপারে বিশেষ নজর দিচ্ছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতোমধ্যেই সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে রইল। পরিবারের স্বজনহারা কান্না, বেঁচে যাওয়া শিশুদের আতঙ্ক এবং শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্মরণকালের অন্যতম হৃদয়বিদারক একটি দুর্ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।




































