প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ঘোষণা
২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
- / 1737
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের সময় নিয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ ও জিজ্ঞাসা ছিল। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর প্রতিবার বড় সংকটের মূল কারণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থা। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা একচেটিয়া দখলের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা আমাদের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী পথে ঠেলে দিয়েছিল। যারা এমন নির্বাচন আয়োজন করে, তারা জাতির কাছে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়, এবং যারা সে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, তারাও জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়ে পড়ে।”
ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে করে ভবিষ্যতে জাতিকে আর কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে না পড়তে হয়। এজন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার ও সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।”
তিনি বলেন, “আমরা বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আশা করছি, আগামী রোজার ঈদের আগেই বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার—যা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়—সে বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের চলমান প্রক্রিয়াগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আমি আজ ঘোষণা দিচ্ছি—জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি যথাসময়ে প্রকাশ করবে।”
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা দেখে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। এই নির্বাচন হোক সবচেয়ে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ—যাতে দেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক তৈরি হয়। প্রায় দেড় যুগ পর দেশে একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ আসছে। তরুণ ভোটাররা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। আমরা এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে জাতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।”































