২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে জার্মানির বয়কটের ডাক
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 10
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলসংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী বক্তব্য ও বাণিজ্যনীতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এই প্রেক্ষাপটে জার্মানিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ট্রাম্পের আগ্রহের বিরোধিতা করায় জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্তত আটটি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই একতরফা বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করেই জার্মানির রাজনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে কারণ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব যদি ক্রীড়াক্ষেত্রে গড়ায়, তাহলে তা বিশ্ব ফুটবলের জন্য বড় ধরনের বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
এই বিষয়ে জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউ–এর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ কার্যকর করেন এবং বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির প্রায় ৪৭ শতাংশ নাগরিক বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে জার্মান সরকার জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলের হাতে নেই। এটি জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) ও ফিফার নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
অন্যদিকে, শুল্ক আরোপের হুমকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় নাম থাকলেও ফ্রান্স এখনই বয়কটের পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপাতত ২০২৬ বিশ্বকাপ বর্জনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কীভাবে মোড় নেয়, সে বিষয়ে তিনি আগাম মন্তব্য করতেও রাজি হননি।
তবে ফুটবলপ্রেমী দেশ জার্মানিতে প্রায় অর্ধেক জনগণের বয়কটের পক্ষে অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজন করা হবে। যদিও টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচ এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা যদি মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলে, তবে বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্য ও গ্রহণযোগ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইউরোপীয় বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে বলে জানা গেছে।


































