ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে পৌঁছাবে: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 92

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’-এর জানুয়ারি সংস্করণে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ভোগ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ কমায় অর্থনীতির গতি ফিরবে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে, যা নতুন সরকারের কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নকে সহজ করবে এবং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে।

বিশ্বব্যাংক কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধির হিসাবও দেওয়া হয়েছে। ভুটানে ৭.৩%, ভারতে ৬.৫%, বাংলাদেশে ৪.৬%, মালদ্বীপে ৩.৯%, শ্রীলঙ্কায় ৩.৫% এবং নেপালে ২.১% প্রবৃদ্ধি হবে বলে বলা হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পূর্বাভাস নেই।

একই সময়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২৭ সালে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী এক দশকে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম হবে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা, ডিজিটাল ও মানবপুঁজি শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে পৌঁছাবে: বিশ্বব্যাংক

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’-এর জানুয়ারি সংস্করণে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ভোগ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ কমায় অর্থনীতির গতি ফিরবে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে, যা নতুন সরকারের কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নকে সহজ করবে এবং শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে।

বিশ্বব্যাংক কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধির হিসাবও দেওয়া হয়েছে। ভুটানে ৭.৩%, ভারতে ৬.৫%, বাংলাদেশে ৪.৬%, মালদ্বীপে ৩.৯%, শ্রীলঙ্কায় ৩.৫% এবং নেপালে ২.১% প্রবৃদ্ধি হবে বলে বলা হয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পূর্বাভাস নেই।

একই সময়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২৭ সালে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী এক দশকে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম হবে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা, ডিজিটাল ও মানবপুঁজি শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।