ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ বছরে যা হয়নি, আজ হয়েছে: রুমিন ফারহানা

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 144

১৫ বছরে যা হয়নি, আজ হয়েছে: রুমিন ফারহানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি-আপত্তি শুনানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের পক্ষে-বিপক্ষে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের এই সংঘর্ষ ঘটে। শুনানি থেকে বের হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “যেটা ১৫ বছরে হয়নি, সেটা আজ হয়েছে। আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য ১৫ বছর লড়াই করেছি, তারা এখন আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে সীমানা নিয়ে নিজের দলে এমন পরিস্থিতি হলে নির্বাচনে কী হবে, অনুমেয়।”

রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে এই শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের শুনানি শুরু হয়।

খসড়া প্রকাশের পর পক্ষে ও বিপক্ষে আবেদন জমা পড়ে। এ নিয়ে শুনানি চলাকালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ইসি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের জন্য শুনানি শেষ করেন এবং শুনানিকক্ষে তাদের বের হওয়ার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা খসড়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেনসহ অন্যান্যরা খসড়ার বিপক্ষে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন। খসড়ার বিপক্ষে থাকা নেতারা দাবি করেন, বিজয়নগর উপজেলা থেকে তিনটি ইউনিয়ন (বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে, তারা উপজেলা অখণ্ড চাই। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো; এখানে মারামারি হয়েছে। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করেছি, আমার কেস আমি নিজেই উপস্থাপন করব। তাই আমি কেসটি নিজে উপস্থাপন করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর প্রার্থী ২০/২৫ জন মিলে গুন্ডা-মাস্তান আচরণ করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমি মনে করি, কমিশনের গাম্ভীর্য ও সম্মানের সঙ্গে এটি যায় না।”

এদিকে, হাতাহাতি চলাকালে উপস্থিত এনসিপি কর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তিন জন আহত হয়েছেন; এনসিপি নেতা প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, মুস্তফা সুমন ও আতাউল্লাহ। প্রকৌশলী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “রুমিন ফারহানার লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আমরা শুধু দাবি নিয়ে ইসিতে এসেছি। এই কারণে আমাদের পেটানো হয়েছে।”

রুমিন ফারহানার কাছে এ অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কি এনসিপি-জামায়াত ছিল, নাকি গুন্ডা-মাস্তান, সেটা আমরা দেখিনি।”

প্রথম দিনের শুনানি চলাকালে নির্বাচন ভবনের বাইরেও ব্যাপক হট্টগোল হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনের সামনে জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।

শুনানি শুরুতে সিইসি স্বাগত বক্তব্য রাখলেও অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের ক্যামেরা নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১৫ বছরে যা হয়নি, আজ হয়েছে: রুমিন ফারহানা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি-আপত্তি শুনানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের পক্ষে-বিপক্ষে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের এই সংঘর্ষ ঘটে। শুনানি থেকে বের হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “যেটা ১৫ বছরে হয়নি, সেটা আজ হয়েছে। আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য ১৫ বছর লড়াই করেছি, তারা এখন আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে সীমানা নিয়ে নিজের দলে এমন পরিস্থিতি হলে নির্বাচনে কী হবে, অনুমেয়।”

রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে এই শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের শুনানি শুরু হয়।

খসড়া প্রকাশের পর পক্ষে ও বিপক্ষে আবেদন জমা পড়ে। এ নিয়ে শুনানি চলাকালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ইসি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের জন্য শুনানি শেষ করেন এবং শুনানিকক্ষে তাদের বের হওয়ার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা খসড়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেনসহ অন্যান্যরা খসড়ার বিপক্ষে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন। খসড়ার বিপক্ষে থাকা নেতারা দাবি করেন, বিজয়নগর উপজেলা থেকে তিনটি ইউনিয়ন (বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে, তারা উপজেলা অখণ্ড চাই। এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো; এখানে মারামারি হয়েছে। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করেছি, আমার কেস আমি নিজেই উপস্থাপন করব। তাই আমি কেসটি নিজে উপস্থাপন করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর প্রার্থী ২০/২৫ জন মিলে গুন্ডা-মাস্তান আচরণ করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমি মনে করি, কমিশনের গাম্ভীর্য ও সম্মানের সঙ্গে এটি যায় না।”

এদিকে, হাতাহাতি চলাকালে উপস্থিত এনসিপি কর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তিন জন আহত হয়েছেন; এনসিপি নেতা প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, মুস্তফা সুমন ও আতাউল্লাহ। প্রকৌশলী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “রুমিন ফারহানার লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আমরা শুধু দাবি নিয়ে ইসিতে এসেছি। এই কারণে আমাদের পেটানো হয়েছে।”

রুমিন ফারহানার কাছে এ অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কি এনসিপি-জামায়াত ছিল, নাকি গুন্ডা-মাস্তান, সেটা আমরা দেখিনি।”

প্রথম দিনের শুনানি চলাকালে নির্বাচন ভবনের বাইরেও ব্যাপক হট্টগোল হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনের সামনে জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।

শুনানি শুরুতে সিইসি স্বাগত বক্তব্য রাখলেও অডিটোরিয়ামে সাংবাদিকদের ক্যামেরা নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।