১৪৭ দলের নিবন্ধন আবেদন
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
- / 332
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। শেষ দিনে—গতকাল রোববারই প্রায় ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল তাদের নিবন্ধন আবেদন জমা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ১৪৭টি নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে।
নতুন এসব দলগুলোর অনেকেরই নেই স্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কার্যকরী কমিটি বা সুসংগঠিত কাঠামো। কারও কারও দলের সাইনবোর্ড ঝড়ে উড়ে গেছে, আবার কেউ দলের অস্তিত্ব বোঝাতে সাংবাদিকদের সামনে প্রতীক বা ম্যানিফেস্টো তুলে ধরতে ব্যস্ত।
এবারের আবেদনে উঠে এসেছে কিছু ব্যতিক্রমী ও চোখে পড়ার মতো নাম। যেমন— বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ সিটিজেন পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি (বাজাপা), বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন, নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনবিপি), দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি, জাতীয় ভূমিহীন পার্টি, সর্বজন বিপ্লবী দল, মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ বৈষম্যবিরোধী গণতান্ত্রিক দল, ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি ইত্যাদি।
একাধিক আবেদনকারী দাবি করেছেন, তারা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন করেছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক দলই কোন জেলায় সংগঠন রয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।
নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দিতে অনেকে সশরীরে নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হন। কেউ কেউ আবার ঘোড়ার গাড়িতে করে আবেদন জমা দিতে এসেছেন। কেউ প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন যেমন—চাবি, মোবাইল, শাপলা, কলম; কেউ আবার আবেদন জমা দিয়েই নিরবে সরে গেছেন।
নিবন্ধনের শর্ত ও প্রক্রিয়া
বর্তমান বিধান অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে—
কেন্দ্রীয় কমিটি এবং স্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে,
অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় কার্যকর কমিটি থাকতে হবে,
কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা বা মহানগর থানা পর্যায়ে অফিস থাকতে হবে,
প্রতিটি ইউনিটে ন্যূনতম ২০০ ভোটারের তালিকা থাকতে হবে,
নারী সদস্যপদের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৩% রাখতে হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা,
কোনো ছাত্র বা শ্রমিক সংগঠনকে দলের সহযোগী সংগঠন হিসেবে না রাখার বিধান মানতে হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশ থাকলেও সেগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পুরোনো নিয়মেই চলবে যাচাই-বাছাই।
বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। অতীতে নিবন্ধন বাতিল হওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা। তবে জামায়াতের আবেদন বিচারাধীন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির নতুন ধারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ২৪টি দল, যার মধ্যে ৬টি ইতোমধ্যে নিবন্ধন পেয়েছে—এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজিপি)।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রচার, রাজনৈতিক সমঝোতা বা ব্যবসায়িক স্বার্থে দল গঠন করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনসেবা ও জাতীয় কল্যাণ।































