১০ মাসে আওয়ামী লীগের তিন হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 87
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগ কার্যত ছত্রভঙ্গ অবস্থায় রয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রকাশ্যে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। তবে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে দলটির নেতাকর্মীরা মাঝে-মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করছেন। এসব মিছিল করতে গিয়েই প্রায়ই জনরোষ ও পুলিশের গ্রেপতারের মুখে পড়ছেন তারা। চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) শুধু ঢাকাতেই আওয়ামী লীগের প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “চলতি বছরের আজ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা কেবল মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদেরই গ্রেপ্তার করেছি।”
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসে এসব মিছিলে অংশ নিয়েছেন। তাদের পেছনে কিছু ব্যক্তি অর্থায়ন করছেন। প্রতিটি মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হচ্ছে। মূলত নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া এবং রাজধানীবাসীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টিই তাদের লক্ষ্য। পরে এসব মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সক্রিয়তা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়।”
তালেবুর রহমান বলেন, “কখনো একদিনে ২৪৪ জন, কখনো আবার ১৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। আমরা বেশ কয়েকজনকে ককটেলসহ গ্রেপ্তার করেছি। যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন, তাদের গতিবিধির ওপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে। আমাদের তৎপরতার কারণেই এই গ্রেপ্তারগুলো সম্ভব হয়েছে।”
মিছিলে অংশ নিলে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঢাকার বাইরে থেকে আসা লোকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচের পাশাপাশি আলাদা অর্থ দেওয়া হয়। আমরা জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য পেয়েছি। তাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্নভাবে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যারা এসব অর্থায়ন করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
এটি গণগ্রেপ্তার কি না জানতে চাইলে ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, “এটা গণগ্রেপ্তার নয়। আমরা কেবল ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়া ও তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করছি। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।”
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দলটির এমন তৎপরতা আরও বাড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডিএমপি যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা রাখে।”





































