১০ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে আগুন
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
- / 161
পেঁয়াজের মৌসুম শেষ, আমদানি বন্ধ এবং টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশজুড়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন পেঁয়াজের দাম। ৩১ জুলাই খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫৫ টাকা। এর পরদিন ১ আগস্ট কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। সেই পেঁয়াজ ৮ আগস্ট (শুক্রবার) বিক্রি হয় ৮৫ টাকায়, আর রোববার তা ঠেকে ৯০ টাকায়। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে যেন আগুন লেগেছে।
ভোক্তা সফিউর রহমান বলেন, “নিত্যপণ্যের বাজারে এই অরাজকতা চলেছে গত ১৫-২০ বছর ধরে। এখনো সেই পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় তারা খামখেয়ালিভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।” পাইকারি বা খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কোনো প্রকৃত সংকট না থাকলেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখার জন্য এবং আমদানি সচল করতে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “প্রতিবছর একই প্রক্রিয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের মূল্য কারসাজি করছেন। কিন্তু কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ভোক্তার স্বস্তির জন্য কোনো গবেষণা বা বাজার তদারকির পরিকল্পনা নেই। তাই সরকারের উচিত বাজারে নজরদারি জোরদার করা।”
রোববার রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি আড়তে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) ৩৪০-৩৬০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৬৮-৭২ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই দাম ছিল ২৫০ টাকা প্রতি পাল্লা (৫০ টাকা কেজি)। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৮-২২ টাকা।
খুচরা বাজারে কাওরান বাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ, রামপুরা প্রভৃতি স্থানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকায়, যা ৭ দিন আগেও ছিল ৬০ টাকা এবং দুই সপ্তাহ আগে ৫৫ টাকা।
নয়াবাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আল আমিন জানান, আড়তদাররা বলছেন বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতি ও মৌসুম শেষ হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে আড়তে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই—বস্তাভর্তি পেঁয়াজ মজুত থাকলেও দাম বেশি।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভালোমানের পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৭৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫-৫৮ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়। মাঝারি মানের পেঁয়াজ পাইকারিতে ৬৭-৬৮ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ৫০ টাকা।
খাতুনগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, “আমদানি বন্ধ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।”
আড়তদারদের দাবি, বর্তমানে পুরো বাজার দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, পাবনা থেকে সরবরাহ আসছে, কিন্তু ভারি বৃষ্টিতে মোকামগুলোতে পেঁয়াজ কম পৌঁছাচ্ছে। ট্রাক ভাড়া ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে।
রোববার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কৃষক, পাইকারি ও খুচরা; এই তিন স্তরে তদারকি হচ্ছে। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মূল্য পর্যালোচনায় কারা দাম বাড়াচ্ছে তা শনাক্ত করা হবে। অসাধু পন্থায় দাম বাড়ালে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আমদানি সচল করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।































