ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হ্যালোইন কি, রহস্যময় এই উৎসবের উৎপত্তি কোথায়?

ইবাহ্রিম ওয়ালিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 236

হ্যালোইন কি, রহস্যময় এই উৎসবের উৎপত্তি কোথায়? ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের এক প্রাচীন ও স্বতন্ত্র জাতি- কেল্টিক। এই জাতির মাঝে মৃত আত্মাদের নিয়ে একটি গভীর বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। তারা মনে করতো, বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। মৃত আত্মাদের উপস্থিতি অনুভব করতে তারা বেছে নিয়েছিল এক বিশেষ উৎসব, আর অশুভ আত্মাদের তাড়াতে নিত বিশেষ সাজসজ্জা, আগুন আর মুখোশের আশ্রয়।

 

প্রাচীন কেল্টিক জাতিগোষ্ঠী মূলত আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর ফ্রান্স অঞ্চলে বসবাস করতো। তাদের কাছে ১ নভেম্বরের এই সময়টা ছিল নতুন বছরের শুরু। তারা বছরের চক্রকে ভাগ করেছিল দুটি অংশে- একটি উষ্ণ ও আলোর সময়, আরেকটি ঠান্ডা ও অন্ধকার সময়।

 

৩১ অক্টোবরের এই সময়টা ছিল গ্রীষ্মের শেষ দিন এবং শীতের সূচনার আগের রাত- এই রাতেই তারা উদযাপন করতো “সামহেইন” উৎসব।

 

সেই রাতে তারা আগুন জ্বালাতো, কৃষকরা পশু জবাই করে খাদ্য মজুত করতো- এ ছিল এক নতুন সূচনার আগের রাত। কেল্টিকদের ধর্ম, যাকে বলা হয় “কেল্টিক প্যাগানিজম”। যা ছিল প্রকৃতি ও আত্মার উপাসনাভিত্তিক এক বহুদেবতাবাদী বিশ্বাস।

 

তারা মনে করতো, গাছ, নদী, পাহাড়, সূর্য, চাঁদ- সবকিছুতেই কোনো না কোনো দেবতা বা আত্মা বিরাজমান। আর মৃত্যু ছিল না শেষ বরং এক আত্মার নতুন যাত্রা।

 

তাদের বিশ্বাস ছিল-  ৩১ অক্টোবর রাতে জীবিত ও মৃত জগতের মাঝের পর্দা সবচেয়ে দুর্বল হয়ে যায়। এই সময় মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। তাই আগুন জ্বালিয়ে, মুখোশ পরে, দেবতাদের পূজা করে তারা চেষ্টা করতো অশুভ আত্মাদের তাড়াতে ও নিজেদের রক্ষা করতে।

 

সময় ও খ্রিষ্টান ধর্মের প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে এই পৌত্তলিক উৎসব ধীরে ধীরে গির্জার রীতির সঙ্গে মিশে যায়। খ্রিষ্টান ধর্মে পরে চালু হয় “অল সেন্টস’ ডে”, যেখানে সাধুদের সম্মান জানানো হয়। এই মিশ্রণ থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আধুনিক হ্যালোইন

 

১৯ শতকে আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা তাদের হ্যালোইন রীতিনীতি নিয়ে যায় উত্তর আমেরিকায়। ২০ শতকের শেষ দিকে আমেরিকান সংস্কৃতির প্রভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। এখন এটি ভয়, মজা ও বিনোদনের এক বিশ্বজনীন উৎসব।

 

কেল্টিকদের বিশ্বাস হ্যালোইনের রাতে কি অতৃপ্ত আত্মারা নেমে আসে। ছবি: সংগৃহীত
কেল্টিকদের বিশ্বাস হ্যালোইনের রাতে কি অতৃপ্ত আত্মারা নেমে আসে। ছবি: সংগৃহীত

কেল্টিকরা আত্মাদের ভয় দেখাতে শালগম, আলু ও বিটরুট কেটে তার ভেতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতো- যাকে বলা হতো “জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন”। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল “স্টিঞ্জি জ্যাক” নামের এক চতুর লোকের গল্প, যিনি নাকি শয়তানকেও বোকা বানিয়েছিলেন।

 

পরে ১৮০০-এর দশকে আইরিশরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখে শালগমের পরিবর্তে প্রচুর কুমড়ো পাওয়া যায়, আর কুমড়ো খোদাই করাও অনেক সহজ! তখন থেকেই কুমড়োই হয়ে ওঠে হ্যালোইনের প্রধান প্রতীক।

 

আজ পশ্চিমা দেশগুলিতে হ্যালোইন শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ভয়ংকর সাজপোশাক, “ট্রিক-অর-ট্রিট”, ভৌতিক বাড়ি, আর জ্বলজ্বলে কুমড়োর মুখ- সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে ভয় ও আনন্দের এক অনন্য রাত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হ্যালোইন কি, রহস্যময় এই উৎসবের উৎপত্তি কোথায়?

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের এক প্রাচীন ও স্বতন্ত্র জাতি- কেল্টিক। এই জাতির মাঝে মৃত আত্মাদের নিয়ে একটি গভীর বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। তারা মনে করতো, বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। মৃত আত্মাদের উপস্থিতি অনুভব করতে তারা বেছে নিয়েছিল এক বিশেষ উৎসব, আর অশুভ আত্মাদের তাড়াতে নিত বিশেষ সাজসজ্জা, আগুন আর মুখোশের আশ্রয়।

 

প্রাচীন কেল্টিক জাতিগোষ্ঠী মূলত আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর ফ্রান্স অঞ্চলে বসবাস করতো। তাদের কাছে ১ নভেম্বরের এই সময়টা ছিল নতুন বছরের শুরু। তারা বছরের চক্রকে ভাগ করেছিল দুটি অংশে- একটি উষ্ণ ও আলোর সময়, আরেকটি ঠান্ডা ও অন্ধকার সময়।

 

৩১ অক্টোবরের এই সময়টা ছিল গ্রীষ্মের শেষ দিন এবং শীতের সূচনার আগের রাত- এই রাতেই তারা উদযাপন করতো “সামহেইন” উৎসব।

 

সেই রাতে তারা আগুন জ্বালাতো, কৃষকরা পশু জবাই করে খাদ্য মজুত করতো- এ ছিল এক নতুন সূচনার আগের রাত। কেল্টিকদের ধর্ম, যাকে বলা হয় “কেল্টিক প্যাগানিজম”। যা ছিল প্রকৃতি ও আত্মার উপাসনাভিত্তিক এক বহুদেবতাবাদী বিশ্বাস।

 

তারা মনে করতো, গাছ, নদী, পাহাড়, সূর্য, চাঁদ- সবকিছুতেই কোনো না কোনো দেবতা বা আত্মা বিরাজমান। আর মৃত্যু ছিল না শেষ বরং এক আত্মার নতুন যাত্রা।

 

তাদের বিশ্বাস ছিল-  ৩১ অক্টোবর রাতে জীবিত ও মৃত জগতের মাঝের পর্দা সবচেয়ে দুর্বল হয়ে যায়। এই সময় মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। তাই আগুন জ্বালিয়ে, মুখোশ পরে, দেবতাদের পূজা করে তারা চেষ্টা করতো অশুভ আত্মাদের তাড়াতে ও নিজেদের রক্ষা করতে।

 

সময় ও খ্রিষ্টান ধর্মের প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে এই পৌত্তলিক উৎসব ধীরে ধীরে গির্জার রীতির সঙ্গে মিশে যায়। খ্রিষ্টান ধর্মে পরে চালু হয় “অল সেন্টস’ ডে”, যেখানে সাধুদের সম্মান জানানো হয়। এই মিশ্রণ থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় আধুনিক হ্যালোইন

 

১৯ শতকে আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা তাদের হ্যালোইন রীতিনীতি নিয়ে যায় উত্তর আমেরিকায়। ২০ শতকের শেষ দিকে আমেরিকান সংস্কৃতির প্রভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। এখন এটি ভয়, মজা ও বিনোদনের এক বিশ্বজনীন উৎসব।

 

কেল্টিকদের বিশ্বাস হ্যালোইনের রাতে কি অতৃপ্ত আত্মারা নেমে আসে। ছবি: সংগৃহীত
কেল্টিকদের বিশ্বাস হ্যালোইনের রাতে কি অতৃপ্ত আত্মারা নেমে আসে। ছবি: সংগৃহীত

কেল্টিকরা আত্মাদের ভয় দেখাতে শালগম, আলু ও বিটরুট কেটে তার ভেতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতো- যাকে বলা হতো “জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন”। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল “স্টিঞ্জি জ্যাক” নামের এক চতুর লোকের গল্প, যিনি নাকি শয়তানকেও বোকা বানিয়েছিলেন।

 

পরে ১৮০০-এর দশকে আইরিশরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখে শালগমের পরিবর্তে প্রচুর কুমড়ো পাওয়া যায়, আর কুমড়ো খোদাই করাও অনেক সহজ! তখন থেকেই কুমড়োই হয়ে ওঠে হ্যালোইনের প্রধান প্রতীক।

 

আজ পশ্চিমা দেশগুলিতে হ্যালোইন শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ভয়ংকর সাজপোশাক, “ট্রিক-অর-ট্রিট”, ভৌতিক বাড়ি, আর জ্বলজ্বলে কুমড়োর মুখ- সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে ভয় ও আনন্দের এক অনন্য রাত।