ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৯ সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা

হুন্ডি ও জুয়ার মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 121

হুন্ডি ও জুয়ার মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা পাচার

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩৪ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং-এর অভিযোগে ৯ জন সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা, হুন্ডি কার্যক্রম এবং অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতারকরা টেলিগ্রামে ভুক্তভোগীদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখাত। কেউ এতে সম্মত হলে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হতো যেখানে অন্য সব আইডি ভুয়া ছিল। ভুক্তভোগী প্রথমে ছোট কাজ দিয়ে আস্থা অর্জন করার পর বড় প্রজেক্টের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।

চক্রটি শুধু অনলাইন প্রতারণাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষদের সরকারি ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করা হতো। এরপর ভুয়া ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ) অ্যাকাউন্ট খোলা হতো, যা ব্যবহার করে টেলিগ্রামে প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ভুক্তভোগীর জমা অর্থ ধীরে ধীরে চক্রের মূল সদস্যদের কাছে স্থানান্তরিত হতো।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চক্রটি দেশের অসাধু ব্যবসায়ী ও ঘুষ-দুর্নীতির অর্থও হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠাত। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ছিল, যেখানে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ছোট ছোট লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস লুকানো হতো। সবশেষে অর্জিত অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), শরিয়তপুরের মো. ইমরান হোসেন (৩০), নারায়ণগঞ্জের মো. নুরে আলম (৩৮), মোছা. লিলি আক্তার (৫৫), মোছা. রিমি আক্তার (৩৪), রুমি আক্তার (৩৬), ডেমরার আব্দুল কাদির জিলানি (৪০), নারায়ণগঞ্জের মুহা. নেয়ামতুল্লাহ (৩০), মো. রিয়াদ (২৫)।

চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিলেন একই পরিবারের সদস্যরা। আরিফুল ইসলাম রিফাত, তার মা লিলি আক্তার, দুই বোন রিমি ও রুমি আক্তার এবং বোনের স্বামী আব্দুল কাদির জিলানী সরাসরি প্রতারণার পুরো কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৯ সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা

হুন্ডি ও জুয়ার মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা পাচার

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩৪ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং-এর অভিযোগে ৯ জন সাইবার প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা, হুন্ডি কার্যক্রম এবং অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতারকরা টেলিগ্রামে ভুক্তভোগীদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখাত। কেউ এতে সম্মত হলে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হতো যেখানে অন্য সব আইডি ভুয়া ছিল। ভুক্তভোগী প্রথমে ছোট কাজ দিয়ে আস্থা অর্জন করার পর বড় প্রজেক্টের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।

চক্রটি শুধু অনলাইন প্রতারণাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষদের সরকারি ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করা হতো। এরপর ভুয়া ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ) অ্যাকাউন্ট খোলা হতো, যা ব্যবহার করে টেলিগ্রামে প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ভুক্তভোগীর জমা অর্থ ধীরে ধীরে চক্রের মূল সদস্যদের কাছে স্থানান্তরিত হতো।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চক্রটি দেশের অসাধু ব্যবসায়ী ও ঘুষ-দুর্নীতির অর্থও হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠাত। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ছিল, যেখানে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ছোট ছোট লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস লুকানো হতো। সবশেষে অর্জিত অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), শরিয়তপুরের মো. ইমরান হোসেন (৩০), নারায়ণগঞ্জের মো. নুরে আলম (৩৮), মোছা. লিলি আক্তার (৫৫), মোছা. রিমি আক্তার (৩৪), রুমি আক্তার (৩৬), ডেমরার আব্দুল কাদির জিলানি (৪০), নারায়ণগঞ্জের মুহা. নেয়ামতুল্লাহ (৩০), মো. রিয়াদ (২৫)।

চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিলেন একই পরিবারের সদস্যরা। আরিফুল ইসলাম রিফাত, তার মা লিলি আক্তার, দুই বোন রিমি ও রুমি আক্তার এবং বোনের স্বামী আব্দুল কাদির জিলানী সরাসরি প্রতারণার পুরো কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।