বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আমি দেশে ১৭ বছর থাকতে পারিনি। তারপরও হুট করে প্লেনে চড়ে পালানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।”
আরও পড়তে পারেন
বৃহস্পতিবার রাত ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, “গত ১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা গ্রামীণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই, নারীদের জীবনমান উন্নয়ন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং শান্তিতে ঘুমাতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। ঢাকার মেগা প্রকল্প মানে মেগা দুর্নীতি।”
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করেছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফের পরিকল্পনা করেছি। কৃষকদের জন্য পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বীজ ও সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ফসল ঢাকায় সহজে পৌঁছানোর জন্য রেল ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
নারীদের জন্য তারেক বলেন, “মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা মাসে একটি সুবিধা হিসেবে দেওয়া হবে। গ্রামে হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ছোট অসুখ ঘরে বসে নিরাময় করা যায়।”
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পড়ালেখা করলে সবাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়, খেলোয়াড়ও হতে পারে। বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জন ও অর্থ আয় করার সুযোগ থাকবে। আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হবে, বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি দেশে আগ্রহী।”
ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতি মাসে সম্মানী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার গঠন হলে এসব ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টে যারা গুম, খুন বা আহত হয়েছেন, তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। একপক্ষ চলে গেছে, আরেক পক্ষ আছে। এজন্য ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে এবং ভোট শুরু হলেই ভোট দিতে হবে।”
জনসভায় নওগাঁবাসীর পক্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, শিশু হাসপাতাল, আত্রাই নদীর ওপর সেতু, একটি রেললাইন, কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার ও জনবল বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবার মানসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।



































