কিশোরগঞ্জে টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। হঠাৎ করে হাড়কাঁপানো শীত ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে হিমশীতল হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় জেলার সর্বত্র স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের দিনমজুর মানুষের আয়-রোজগারেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কনকনে শীতে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না।
‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’—প্রচলিত এই প্রবাদটি যেন এবার পৌষের শীতেই বাস্তব হয়ে উঠেছে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।
তীব্র শীত কৃষিখাতেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাপমাত্রা নিচের দিকে নেমে যাওয়ায় বোরো বীজতলা ও গমের ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষিবিদদের মতে, কম তাপমাত্রা গম চাষের জন্য কিছুটা উপযোগী হলেও বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’র ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ছাড়া শীতকালীন সবজির ফলন নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।
গত দুদিন ধরে দিনের বেলায় শীত কিছুটা কম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উত্তুরে হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতা বেড়ে যায়। শীত নিবারণের জন্য জেলার গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে।
উত্তরীয় হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় বিশেষ করে নদ-নদীতীরবর্তী হাওর ও চরাঞ্চলের জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে ছিন্নমূল ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। তীব্র শীতের কারণে অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় দিনের বেলায় তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্দ্রতা ও কুয়াশার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা (রিয়েলফিল) এর চেয়ে কম লাগতে পারে। স্থানীয় কুয়াশা ও মেঘের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সামান্য তারতম্য থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।




































