ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা–কামালের বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 73

হাসিনা–কামালের বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) প্রকাশিত বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, আসামিদের নিজেদের পছন্দের আইনজীবী ছাড়া অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়—সবমিলিয়ে গুরুতর মানবাধিকার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংস্থা বলছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সমর্থকদের দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর সুসংগঠিত হামলা চালাতে উসকানি দিয়েছেন এবং ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনটি বেআইনি হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

প্রসিকিউশন ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে ভুক্তভোগী, নিহতের পরিবার এবং বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। হাসিনার বিরুদ্ধে অডিও রেকর্ডিংও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তাকে লেথাল ফোর্স ব্যবহারের নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তবে প্রতিরক্ষার কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি।

এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করে, অনুপস্থিতিতে বিচার আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে। আদালতে হাজির থাকার অধিকার এবং নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

রায়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ওপর চাপালেও তার ‘নেতৃত্বের দায়’ স্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। গুলিতে নিহত হয়েছে প্রায় ১,৪০০ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।

এইচআরডব্লিউ মনে করছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত মামলা ও আইসিটির অপব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এছাড়া তারা অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার এবং মৃত্যুদণ্ডের স্থগিতাদেশ (moratorium) দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতকে হাসিনা ও কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এইচআরডব্লিউ বলেছে, ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ হচ্ছে এবং কাউকে এমন দেশে পাঠানো হবে না যেখানে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা নেই বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।

এই ঘটনায় আদালতের তিন সদস্যের প্যানেল রায় দিয়েছেন। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনা–কামালের বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি

সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) প্রকাশিত বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, আসামিদের নিজেদের পছন্দের আইনজীবী ছাড়া অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়—সবমিলিয়ে গুরুতর মানবাধিকার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংস্থা বলছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সমর্থকদের দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর সুসংগঠিত হামলা চালাতে উসকানি দিয়েছেন এবং ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনটি বেআইনি হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

প্রসিকিউশন ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে ভুক্তভোগী, নিহতের পরিবার এবং বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। হাসিনার বিরুদ্ধে অডিও রেকর্ডিংও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তাকে লেথাল ফোর্স ব্যবহারের নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তবে প্রতিরক্ষার কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি।

এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করে, অনুপস্থিতিতে বিচার আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে। আদালতে হাজির থাকার অধিকার এবং নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

রায়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ওপর চাপালেও তার ‘নেতৃত্বের দায়’ স্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। গুলিতে নিহত হয়েছে প্রায় ১,৪০০ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।

এইচআরডব্লিউ মনে করছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত মামলা ও আইসিটির অপব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এছাড়া তারা অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার এবং মৃত্যুদণ্ডের স্থগিতাদেশ (moratorium) দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতকে হাসিনা ও কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এইচআরডব্লিউ বলেছে, ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ হচ্ছে এবং কাউকে এমন দেশে পাঠানো হবে না যেখানে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা নেই বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।

এই ঘটনায় আদালতের তিন সদস্যের প্যানেল রায় দিয়েছেন। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।