মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি
হাসিনাকে ফেরাতে আইনি পদক্ষেপে বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 80
জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনতে চিঠি প্রস্তুত করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলেও নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চিঠির সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রায় পাঠাবে না। নোট ভারবাল (চিঠি) হিসেবে পাঠানো হবে। চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা– উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তুত হচ্ছে। হয়তো আজকে (মঙ্গলবার) পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দিবিনিময় সহজ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। এর প্রায় আড়াই বছর পর প্রথম বন্দি হস্তান্তরের ঘটনা জানা যায়। ২০১৫ সালে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হস্তান্তর করা হয় অনুপ চেটিয়া ও নূর হোসেনকে। এর প্রায় এক যুগ পর প্রত্যর্পণ চুক্তি আলোচনায় এলো ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর। তবে এ চুক্তির অধীনে ভারত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে ফেরত দেবে কিনা, তা নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।
বাংলাদেশ মনে করে, ভারত যদি সততার সঙ্গে এই চুক্তিকে দেখে, তাহলে ভারত অবশ্যই তাদের ফেরত দিতে বাধ্য। কিন্তু ভারতীয় বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। ভারত তার দীর্ঘদিনের মিত্রকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে না। তবে দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের ফেরত না দিলে দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েনে পড়বে বলে মনে করেন কয়েকজন ভারতীয় কূটনীতিক।
এদিকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী তামিম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ থাকবে না। যদি তারা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করেন, তাহলে তারা গ্রেপ্তার হলেই রায় কার্যকর হবে।
































