হাসপাতালে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ ১০ জনকে পিটুনি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
- / 407
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংগঠকসহ অন্তত ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—রামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন ‘বৈছাআ’-এর সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈম, আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, তারেক ও সংবাদকর্মী রায়হানুর রহমানসহ মোট ১০ জন। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই আহতদের দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম।
আটক তিনজন হলেন—মো. মাসুদ, কামাল হোসেন ও তুষার। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শৈরশই গ্রামের গনক বাড়িতে রাহুল ও সাফোয়ান নামে দুই কিশোর ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় ফুটবল লেগে একই বাড়ির উদ্দীপন এনজিও কর্মী সোহাগ আলমের ছেলে আনাছুর রহমান মাথায় আঘাত পায়। পরে রাহুল ও সাফোয়ানের কাছে শিশুটির মা আমেনা আক্তার বিথী ঘটনার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে আমেনার সঙ্গে তাদের স্বজনদের বাকবিতণ্ডা হয়।
সন্ধ্যায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় রাহুলের বাবা রাজন হোসেন ও সাফোয়ানের বাবা মো. লিপনসহ স্বজনরা শিশুটির বাবা সোহাগকে আইনের আশ্রয় না নিতে হুমকি দেন।
শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাহুল-সাফোয়ানদের স্বজন মাসুদ, তুষার, কামালসহ কয়েকজন সেখানে যায়। একপর্যায়ে শিশুটির ফুফু জান্নাতুল ফেরদাউসকে চুল টেনে ধরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। ঘটনাটি শিশুটির বাবা সোহাগ তার আত্মীয় ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ানকে জানালে রেদোয়ানসহ কয়েকজন বিষয়টি জানতে হাসপাতালে যান। তখন মাসুদ, তুষার ও কামাল ২০-২৫ জন লোক নিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “হাসপাতালের ভেতর মারধরের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরাও এখন অনিরাপদ বোধ করছেন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, “হামলার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।”
রামগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”































